২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দেশের জার্সিতে আর দেখা যাবে না ফুটবলের এই কিংবদন্তিকে। তবে বিদায়ের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন কিছু কীর্তি গড়ে গেছেন, যা তাঁকে ইতিহাসের পাতায় আলাদা জায়গা করে দিয়েছে।
পর্তুগালের হয়ে ২৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। গোল করেছেন ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোল—দুটি বিশ্বরেকর্ডই নিজের দখলে রেখে বিদায় নিয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানোর পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২৫ সালে জিতেছেন উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা।
বিশ্বকাপেও রয়েছে তাঁর অসাধারণ অর্জন। ছয়টি আসরে অংশ নিয়ে প্রতিটিতেই গোল করেছেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ১১। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এমন সব অর্জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৯টি রেকর্ড তুলে ধরা হলো।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের হিসাবে সবার ওপরে রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিওনেল মেসির গোল ১২৬টি। অর্থাৎ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২০ গোল বেশি করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও রোনালদোর। পর্তুগালের জার্সিতে খেলেছেন ২৩৪টি ম্যাচ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির ম্যাচ ২০৮টি। ২০০৩ সালে অভিষেকের পর টানা ২৩ বছর দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি।
বয়স যে গোল করার পথে বাধা নয়, তা প্রমাণ করেছেন রোনালদো। ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগে পর্তুগালের হয়ে তাঁর গোল ছিল ৫২টি। আর ৩০ পেরিয়ে গোল করেছেন আরও ৯৪টি। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশে বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাঁর গোলসংখ্যা।
পর্তুগালের হয়ে ৯৬টি পৃথক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন রোনালদো। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শুধু গোলের সংখ্যা বাড়ানো নয়, নিয়মিত ম্যাচে গোল করার এই ধারাবাহিকতাও তাঁর বিশেষত্ব। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ সময় ধরে গোল করার সক্ষমতার অনন্য উদাহরণ তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের বৈচিত্র্যেও এগিয়ে রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে ৪৯টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে গোল করেছেন তিনি। এই তালিকায় মেসির চেয়ে তিনটি দেশ বেশি রয়েছে তাঁর নামের পাশে।
২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ২৩টি ক্যালেন্ডার বছরে পর্তুগালের হয়ে গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এত দীর্ঘ সময় ধরে প্রতি বছর গোল করার ধারাবাহিকতা বিরল। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ফিটনেসের বড় প্রমাণ এই রেকর্ড।
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসেও রোনালদোর আধিপত্য স্পষ্ট। প্রতিযোগিতাটির মূল পর্বে তাঁর গোলসংখ্যা ১৪। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনির গোল ৯টি। পাঁচ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এই রেকর্ড নিজের করে রেখেছেন পর্তুগিজ তারকা।
ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে সবচেয়ে বেশি ৩০টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। একাধিক প্রজন্মের ফুটবলারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোর মঞ্চে নিজের উপস্থিতি ধরে রেখেছেন তিনি। এই রেকর্ড তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্থায়িত্বেরই প্রতিফলন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী রেকর্ডগুলোর একটি রোনালদোর দখলে। ২০০৬ থেকে ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই গোল করেছেন তিনি। পুরুষদের ফুটবলে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় রোনালদো। সব আসর মিলিয়ে তাঁর গোল ১১টি।
পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলেও ফুটবলের মঞ্চ থেকে এখনই বিদায় নিচ্ছেন না রোনালদো। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়েছে, কিন্তু ক্লাব ফুটবলে তাঁর নতুন লক্ষ্য এখনো বাকি।
২৩ বছরের আন্তর্জাতিক যাত্রায় ১৪৬ গোল, ২৩৪ ম্যাচ এবং অসংখ্য অর্জন—পর্তুগালের সাত নম্বর জার্সিতে রোনালদোর এই অধ্যায় ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
