বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

ভরাডুবির পরে ‘বলির পাঁঠা’র খুঁজছে রিপাবলিকানরা

প্রকাশিত - ০৫ নভেম্বর, ২০২৬   ০৭:৫৮ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরেই আমেরিকায় ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোরের পালা। প্রকাশ্যে এসেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতান্তর। আর সেই সঙ্গেই শুরু হয়েছে, বিপর্যয়ের দায় চাপানোর জন্য ‘জুতসই’ মুখের সন্ধান!

প্রাথমিক ভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষাসচিব (ট্রাম্প জমানায় যে পদের নাম বদল হয়েছে যুদ্ধসচিব) পিট হেগসেথকে নিশানা করেছেন রিপাবলিকান নেতৃত্বের বড় অংশ। ইতিমধ্যেই তাঁর ইস্তফার দাবিও উঠেছে দলের অন্দরে। কয়েকটি পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের খবর, ইস্তফা না-দিলে মার্কিন কংগ্রেসে হেগসেথের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে পারেন রিপাবলিকান পার্টিরই কয়েক জন সদস্য! বস্তুত, হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসে সদ্য নির্বাচিত রিপাবলিকান সদস্য টমাস ম্যাসি বৃহস্পতিবার হেগসেথের পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, ‘‘হেগসেথ ইস্তফা না-দিলে আমি আগামী সপ্তাহেই কংগ্রেসে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এনে ভোটাভুটি করাব।’’ অন্য দিকে, ভোট-বিপর্যয়ের জন্য হেগসেথকে দুষে রিপাবলিকান সেনেটর থম টিলিসের মন্তব্য, ‘‘এ বার ওঁর জবাবদিহি করার সময় এসেছে।’’

পরাজয়ের নেপথ্যে ইরান যুদ্ধের যে ভূমিকা ছিল, তা মেনে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। কিন্তু ট্রাম্প যেখানে নিজের যুদ্ধনীতির যৌক্তিকতা বোঝাতে ব্যস্ত, সেখানে এই নীতি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন ভান্স। বুধবার, ভ্যান্স প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানের যুদ্ধ আদৌ সার্থক ছিল কি না! তিনি বলেছেন, ‘‘এর ফলেই রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’’ আর এ ক্ষেত্রে রিপাবলিকান নেতৃত্বের একাংশ ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষাসচিবের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত ভুল তথ্য দিয়ে সরকার ও দলকে বিপথে পরিচালিত করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে রাজি করানোর পেছনে হেগসেথ প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।

হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক রিপাবলিকান নেতা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই চান যে কেউ পরাজয়ের দায়িত্ব নিক, তা হলে তিনি হলেন পিট হেগসেথ। শুরু থেকেই সময়সীমা, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে পিট হয় অসৎ ছিলেন, নয়তো ভুল তথ্য দিয়েছেন— যার কোনওটিই গ্রহণযোগ্য নয়।” তাঁর অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রধান উদ্যোক্তা তেহরানের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ভুল বুঝিয়েছিলেন পেন্টাগনকে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মুখ পুড়েছে আমেরিকার। ট্রাম্প এখনও কোনও শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেননি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পর, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের একাংশ আশা করছেন যে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের অভ্যন্তরে কিছু স্তরের পরিবর্তন নিয়ে আসবেন। আর জল্পনা, সে ক্ষেত্রে প্রথম ‘কোপ’ পড়বে হেগসেথের উপর।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টানা পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দুই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা রশিদা তলাইব ও ইলহান ওমর। মিশিগানের ১২ নম্বর আসনে তলাইব এবং মিনেসোটার ৫ নম্বর আসনে জয় পেয়েছেন ওমর।
ইরানে আপাতত নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকলেও নতুন হামলার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এ দুর্ঘটনা চলতি শতাব্দীতে ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। ফরেনসিক দল নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্বজনদের দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক অপেক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ পরীক্ষা করেও পরিচয় শনাক্ত করতে হয়েছে। মাদ্রিদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর নেপাল, দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত এবং ভারতের উত্তরাখণ্ডের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত বাড়ছে নির্মাণকাজ। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এসব এলাকায় ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোয় আচ্ছাদিত জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। আর হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের পানি উপচে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে, এমন এলাকায় নির্মাণ বেড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় আলোচনা শেষে ইরানি প্রতিনিধিরা ফিরে গেছেন। সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং পরবর্তী বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে ইরানের সাত দফা প্রস্তাব আলোচনার মূল ভিত্তি। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়নি