শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
২৩ কার্তিক ১৪৩৩

তুরস্কে জলবায়ু সম্মেলন, আলোচনায় গুরুত্ব পাবে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ

প্রকাশিত - ০৭ নভেম্বর, ২০২৬   ০৩:৪৭ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন: এবারের জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। তবে সম্মেলনের আয়োজক দেশ তুরস্ক নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংশে কয়লার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে সম্মেলনের সভাপতিত্বের দায়িত্বে থাকা অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় কয়লা রপ্তানিকারক দেশ। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে তা এবারের সম্মেলনে বিশেষভাবে সামনে আসতে পারে।

চলতি সপ্তাহে তুরস্কের আনতালিয়ায় শুরু হচ্ছে কপ৩১। এবারের সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট চূড়ান্ত জ্বালানি চাহিদার ৩৫ শতাংশ বিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণের একটি লক্ষ্য আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো এবং বর্জ্য ও মিথেন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগও গুরুত্ব পাবে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের সম্মেলনের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ জটিল। ইউক্রেন, ইরান ও গাজাকে ঘিরে সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে তীব্রতর হওয়া এল নিনো পরিস্থিতি জলবায়ু ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

গত বছর ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ৩০-এ সমঝোতার মাধ্যমে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে এবারের সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পায়। অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিক আলোচনার সভাপতিত্ব করবে। এসব আলোচনায় থাকবে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের কর্মীদের জন্য ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তহবিল, জলবায়ু অর্থায়ন এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর অগ্রগতি।

অন্যদিকে তুরস্ক সম্মেলনের কর্মসূচিভিত্তিক উদ্যোগগুলো পরিচালনা করবে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো।

তবে আয়োজক দুই দেশের জ্বালানিনীতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কপ৩১ আলোচনার সভাপতি ক্রিস বোয়েন জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে কয়লা ব্যবহার বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।

তুরস্কে বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় উৎস এখনো কয়লা। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটলেও দেশটির জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বদলে বাড়ার সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কয়লাপ্রধান অঞ্চলের ৫০টি সংগঠন এবারের সম্মেলনের সভাপতিদের কাছে কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

তুরস্কের আফসিন-এলবিস্তান অঞ্চলের পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি মেহমেত দালকানাত বলেন, ওই অঞ্চলের মানুষ ৪০ বছর ধরে কয়লাসংশ্লিষ্ট দূষণের শিকার হচ্ছেন। গত জুলাইয়ে দেশটির বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাতিল হওয়াকে স্থানীয় আন্দোলনের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তারা।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোও বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ও ব্যাপক হারে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে। উষ্ণতা ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতেও বড় ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন। অথচ বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এ পরিস্থিতিতে কপ৩১-এ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়ে কী ধরনের অগ্রগতি হয় তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কয়লা উৎপাদন ও ব্যবহারে নির্ভরশীল দুই দেশের নেতৃত্বে আয়োজিত সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয় সেদিকেই নজর থাকবে সবার।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সার্বভৌমত্ব র‍্যালি শেষে তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন।