২৪ঘণ্টা খুলনা প্রতিনিধি : এবার বিপরীত পক্ষ মাঠে নেমেছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের সমর্থনে মানববন্ধন করেছেন কর্মচারীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য দুর্বার বাংলার পাদদেশে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) কর্মচারীরা উপাচার্যের পক্ষে এই মানববন্ধন করেছে।
১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য দুর্বার বাংলার পাদদেশে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় অভিযোগ করা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে আবারও কুয়েট ক্যাম্পাসে কতিপয় শিক্ষার্থী বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসিব সরদার। বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি শেখ এরশাদ আলী, সাবেক সভাপতি ইমদাদ মোড়ল, মাস্টাররোল কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল হালিম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের যে এক দফা দাবি তুলেছেন, সেটা যৌক্তিক নয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁরা সব সময় ছিলেন, এখনো তাঁদের পাশে আছেন। সেদিন (১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি) মার খেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর বিচারের ব্যবস্থা করছে। এখন উপাচার্য স্যারের পদত্যাগ দাবি করায় একধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। যাঁরা প্রকৃত দোষী, তাঁরাও পার পেয়ে যেতে পারেন।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, ‘আপনারা আলোচনার টেবিলে বসুন, আলোচনা করুন, সমাধান করুন। এই ভার্সিটি যেন সুন্দরভাবে চলে। বিশ্বের কাছে যাতে এই ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা মাথা উঁচু করে পরিচয় দিতে পারেন।’ প্রতিপক্ষ উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের দুর্বার বাংলার পাদদেশে মশালমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক আহত হন। পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বন্ধের পর আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা গত রবিবার বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে আন্দোলন আবারও দানা বাঁধতে থাকে। সোমবার রাতে শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবনের সামনে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করেন। সোমবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা দেন। এরপর ছেলেদের ৬টি হলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তাঁরা। গতকাল বুধবার দুপুরে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচির পর উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবির বিপক্ষে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
