২৪ঘণ্টা অনলাইন : অনলাইন জুয়া নিয়ে সরকার কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে। কোনো সাইট জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করলে আগামীকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) থেকেই তা বন্ধ করে দেবে সরকার। আজ শনিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে জুয়াকে খেলা, প্রচার ও উৎসাহ প্রদানকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে সরকার নিজ দেশের আওতাভুক্ত সাইট বন্ধ করতে পারলেও মেটা ও গুগলের প্ল্যাটফর্মগুলোয় জুয়ার প্রচার এতটা সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি–সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন ও প্রমোশনাল কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এটি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২–এর পরিপন্থী ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
মন্ত্রণালয় বলছে, যদি কোনো সংবাদপত্র (অনলাইন ভার্সনসহ), নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বা ওয়েবসাইটে জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফি–সম্পর্কিত কনটেন্ট প্রচারিত হয়, তবে বিনা নোটিশে সেই সাইট ব্লক করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গতকাল শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লিখেছেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সাইটে একাধিক জুয়ার বিজ্ঞাপন তিনি নিজে দেখতে পেয়েছেন। তিনি শেষবারের মতো এসব বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘অন্যথায় আপনাদের সাইটগুলো বিনা নোটিশে ব্লক হয়ে যাবে। আমরা আর কোনো নোটিশ দেব না।’
আজ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের সতর্কতার পর এরই মধ্যে ক্রিকইনফো, জনকণ্ঠ, ঢাকা পোস্টসহ আরও বেশ কয়েকটি পত্রিকা তাদের অ্যাডসেন্স পরিবর্তন করেছে। সরকার তাদের ধন্যবাদও দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার দেশের সাইবারজগৎকে নিরাপদ, নৈতিক ও প্রজন্মবান্ধব রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ), জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যৌথভাবে কাজ করছে।
