২৪ঘণ্টা অনলাইন : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদের ওপর গণভোট পর্যবেক্ষণে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কমনওয়েলথ।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ঘোষণা দেন। কমনওয়েলথের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়েছে। ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ.ই. নানা আকুফো আসো এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন।
পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা হলেন, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার ক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপের প্রেসিডেন্ট লেব্রেখটা নানা ওয়ে হেসে-বেইন, কানাডার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নীল ফিলিপ ফোর্ড, ফিজির প্যাসিফিক ইয়ুব কাউন্সিলের সমন্বয়ক মিলিয়ানা ইগা রামাতানিভাই, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর দাতুক(ড.) রাস আদিবা মোহদ রাদজি, মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী এইচ.ই. জোফ্রি সালিম ওয়াহিদ, মরিশাসের নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মাদ ইরফান আবদুল রহমান, সিয়েরালিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রফেসর ডেভিড জন ফ্রান্সিস, সিঙ্গাপুরের মানবাধিকার আইনজীবী সঙ্গীথা যোগেন্দ্রন, দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা প্রফেসর ম্যান্ডলা মচুনু, শ্রীলংকার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের পাবলিক ও আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. দিনেশা সমরারত্নে, উগান্ডার প্রফেসর উইনিফ্রেড মেরি তারিনিয়েবা কিরিয়ারউইরে, যুক্তরাজ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রোজমেরি আজাই এবং জাম্বিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ক্রিটিকাস প্যাট্রিক এনশিনদানু।
এ বিষয়ে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেন, “বাংলাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের দল পাঠানোর মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মৌলিক গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের উপস্থিতি কেবল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থেকেই পরিচালিত নয়, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতির অংশ।”
প্রতিনিধি দলের প্রধান আকুফো-আদোর সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের একটি দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যাপরুজ। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ সকল কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা। মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে।
