শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

সময় হল নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করার

প্রকাশিত - ০৯ মার্চ, ২০২৬   ১২:৫২ পিএম
webnews24


দুনিয়ারীতা হতে বিরতি নিয়ে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ সোপর্দ করাই এতেকাফ। এতেকাফ নামাজের মতোই। নামাজ হল- নির্দিষ্ট নিয়মে নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা আর এতেকাফ হল- নিজের মতো করে নিজেকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা। 

শরীয়তের পরিভাষায় এতেকাফ হল- ইবাদত ও সওয়াবের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা ও স্থির থাকা- যদিও তা এক মুহূর্তের জন্যও হয়। এতেকাফ তিন প্রকার। 

১. নফল এতেকাফ: রমজানের শেষ দশক ছাড়া যেকোনো সময়ে এতেকাফ করাকে ‘নফল এতেকাফ’ বলে। চাই বেশি সময়ের জন্য হোক বা অল্প সময়ের জন্য হোক। 

২. ওয়াজিব এতেকাফ: এতেকাফের মান্নত করলে এতেকাফ ওয়াজিব হয়ে যায় এবং এতেকাফ শুরু করার পর তা নষ্ট করে ফেললে তার জন্য কাযা এতেকাফ ওয়াজিব হয়ে যায়। 

৩. সুন্নত এতেকাফ: রমজানের ২০ তারিখে সুর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করা। 

রাসূলুল্লাহ স. মদিনায় আসার পর থেকে প্রতি বছরই রমজানে এই এতেকাফ করতেন। শুধু এক বছর ওজরবশত এতেকাফ করতে পারেননি। সাহাবায়ে কেরামের কেউ কেউ এতেকাফ করতেন, আর কেউ কেউ এতেকাফ করতেন না। 

এ কারণে ইমামগণ বলেছেন যে- রমজানের শেষ দশকের এতেকাফ- 'সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া'। এর অর্থ হল- গ্রাম বা প্রত্যেক মসজিদের অধিবাসীদের একজনও যদি রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করে তাহলে সকলের পক্ষ থেকে এ সুন্নত আদায় হয়ে যাবে, নতুবা ঐ মসজিদের আওতায় সব মহল্লাবাসী গুনাহগার হবে। 

পৃথিবীর জীবন যাপন শেষে আমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছেই ফেরত যেতে হবে। তাই এই মুসাফিরের জীবনটা শুধু ব্যস্ততার মধ্যে শেষ করে না দিয়ে দুনিয়ারীতা হতে বিরতি নিয়ে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ সোপর্দ করা আবশ্যক। যাতে আমরা তার সাথে পরিচিত হয়েই তার নিকট ফিরে যেতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলকে 'আবেদ' হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন। 
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন