শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

ভোগান্তির আশঙ্কায় স্টেশনে যাত্রীদের ঢল

প্রকাশিত - ১৪ মার্চ, ২০২৬   ১১:৩২ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও ট্রেনে বাড়ি ফিরতে ১৪ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে অনেকেই সকাল থেকেই স্টেশনে ভিড় করছেন।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেক যাত্রীই জানিয়েছেন, হাতে সময় থাকায় ঈদের ঠিক আগের ভিড় ও সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতেই তারা আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুড়িমারি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী বলেন, আমি কাউনিয়া স্টেশনে নামবো। উত্তরবঙ্গের জন্য ট্রেনই সবচেয়ে আরামদায়ক বাহন। ভোগান্তি এড়াতেই একটু আগেভাগে যাচ্ছি।

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ও শিক্ষার্থী বলেন, আমি কাউনিয়া স্টেশনে নামবো। ঈদ সামনে এলেই বাড়ির টানটা যেন আরও বেশি অনুভূত হয়। তাই ভোগান্তি এড়াতে একটু আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের পথে ট্রেনই সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ বাহন। দীর্ঘ পথের যাত্রায় ট্রেনে গেলে ক্লান্তি কম লাগে।

জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী হুমায়ূন আহমেদ হিমু বলেন, ঈদের সময় ভিড় অনেক বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই মাকে ও ছোট বোনকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। এরমধ্যে ঈদের জন্য শপিং করাও শেষ। তিনি বলেন, এখন স্টেশনে তেমন কোনো ভিড় নেই। ছুটি শুরু হলে বাবা ১৭ মার্চ গ্রামের বাড়িতে আসবেন। একটু আগে তিনি নিজেই আমাদের স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। ঈদেরে আনন্দ এখান থেকেই শুরু হয়ে গেল।

১৩ মার্চ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদ উপলক্ষ্যে ট্রেনযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ ট্রেনযাত্রার দ্বিতীয় দিন। বিশেষ ব্যবস্থায় স্টেশনের প্রবেশপথে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশমুখে দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিট থাকলে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই, তবে বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দায়িত্বরত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানিয়েছেন, যারা টিকিট ছাড়া প্রবেশ করতে চান, তাদের কোনোভাবেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ যদি তিনটি টিকিট কেটে থাকেন কিন্তু পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ায় একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে কোনোভাবেই বিনা টিকিটে কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে। এজন্য প্রবেশের সময় দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে।

১৪ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এই ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেনের মোট আসন রয়েছে ২৮ হাজার ৯২৬টি। এরমধ্যে পূর্বাঞ্চলের ২৩টি ট্রেনের ১৬ হাজার ১৯৪টি এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি ট্রেনের ১২ হাজার ৭৩২টি আসন গত ৪ মার্চ অনলাইনে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।


 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন