শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পের সফরের বেইজিংয়ে চীনে পুতিন

প্রকাশিত - ২০ মে, ২০২৬   ১২:৫৬ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের পরপরই বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির নেতার এই সফর বিশ্ব কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এটি শুধু কূটনৈতিক সফর নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ক্রমেই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে মস্কোর জন্য বেইজিং এখন সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাশিয়ার অর্থনীতি অনেকটাই চীনের চাহিদা ও বাজারের ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে, যা সম্পর্কের অসম অবস্থান স্পষ্ট করে।

বিশ্লেষক আলেকজান্ডার গাবুয়েভের মতে, এই সম্পর্ক এখন অনেকটাই চীনের শর্তে পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষায়, রাশিয়া ক্রমশ বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং বড় সিদ্ধান্তগুলোতেও চীনের প্রভাব বাড়ছে।

পুতিন-শির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এটার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহ করা সম্ভব। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতার কারণে চীন জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ করতে আগ্রহী।

ইউক্রেন যুদ্ধও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। রাশিয়ার অভিযোগ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তাকে চীনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, চীন পরোক্ষভাবে রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। যদিও বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ঘিরে উত্তেজনা, ইউরোপে যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে চীন একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি পুতিন-শি জিনপিং বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।