শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

মোদী-মেলোনির অন্যরকম মেলোডি

প্রকাশিত - ২২ মে, ২০২৬   ১২:২৭ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : ৯০-এর দশকে এই বিজ্ঞাপনী ছড়া মুখে মুখে ফিরত। ১ টাকার টফির স্বাদে মজেছিল আট থেকে আশি। কিন্তু সেই চকোলেটই যে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে ইতালির কূটনৈতিক সম্পর্কের বাঁধন পোক্ত করতে কাজে আসবে তা-ই বা কে জানত! ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে প্যাকেট ভর্তি ‘মেলোডি’ উপহার দিয়ে নরেন্দ্র মোদী ভারতীয়দের মনেও উস্কে দিলেন ছোটবেলার স্মৃতি। সেই সঙ্গে বিশ্বের দরবারে পৌঁছেও দিলেন ভারতীয় ‘মেলোডি’-কে।

চকোলেট ভাগাভাগির মিষ্টি মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন মেলোনি। ধন্যবাদও জানিয়েছেন ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধানকে। সেই ভিডিয়োয় ইতিমধ্যেই লাইক, কমেন্টের বন্যা। প্রধানমন্ত্রীর ‘মেলোডি’ উপহারের মধ্যে কূটনৈতিক কৌশল থাকলেও, ভারতবাসী তা দেখেই ভাসছেন স্মৃতিমেদুরতায়।

১৯৮৩ সালে টফিটি ভারতে এসেছিল ‘পার্লে জি’ কোম্পানির হাত ধরে। টফি তো আগেও ছিল, কিন্তু মেলোডির বিশেষত্ব ছিল তার ট্যাগলাইন আর স্বাদে। মেলোডি কেন ‘চকোলেটি’, তা চেখে দেখার তাড়না যেমন তৈরি হয়েছিল, তেমনই স্বাদ বিচারে তা জনপ্রিয় হয়েছিল। একবার যিনি খেয়েছিলেন, বার বার সেই স্বাদে ফিরতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু কেন চেখে দেখতেই হত ‘মেলোডি’। উত্তর লুকিয়ে স্বাদেই। বৈশিষ্ট্য ছিল এর ভিতরের নরম গলিত চকোলেট। বাইরে ক্যারামেল যুক্ত মোড়ক থাকলেও, মধ্যভাগে থাকত নরম এবং একটু গলিত ভাব, যা মুখে দিলেই স্বাদের বিস্ফোরণ! নামী-দামি দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড থাকলেও ‘মেলোডি’-র দাম, স্বাদ, মোড়ক ও ট্যাগেই ডুবেছিলেন সকলে। কারণ, এটি ছিল সকলের নাগালের মধ্যে। সহজেই পাওয়া যেত ছোট ছোট জনপদে, অলি-গলির দোকানেও।
মেলোডি কেন এত চকোলেটি? ট্যাগলাইনটি লিখেছিলেন সেই সময়ের এক কপি রাইটার সুলেখা বাজপেয়ী। এতে ছিল প্রশ্ন। ছিল কৌতূহল। আর সেই কৌতূহল নিরসনের উত্তর ছিল, নিজে সেই স্বাদ চেখে দেখায়। বিজ্ঞাপন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তেমন পেশাদারদের ধারণা, এই কৌতূহল আর তার উত্তর খোঁজার মধ্যেই এক সুন্দর বন্ধন তৈরি হয়, যা জনপ্রিয় করে তুলেছিল ট্যাগলাইনটিকে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নামী-দামি চকোলেটের ভিড়ে হারাতে বসেছিল নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো এর স্বাদও জানেন না। তবে ৪৩ বছর পরে ভারতের সেই স্মৃতিমেদুরতা, আবেগকেই বিশ্বজনীন করে তুলে তুললেন নরেন্দ্র মোদী।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।