শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

মাঝারি গরুতেই নজর সবার

প্রকাশিত - ২২ মে, ২০২৬   ০১:০১ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : রাজধানীর অনেক মানুষই এখন এককভাবে গরু কোরবানির পরিবর্তে ভাগে কোরবানির দিকে ঝুঁকছেন। খামারি ও পশু বিক্রেতারা বলছেন, ভাগে কোরবানির ক্রেতা বাড়ায় তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেড়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে এবার ভাগে কোরবানির প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে পশুখাদ্যসহ উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় কোরবানির পশুর দামও বেড়েছে। বিপরীতে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে বড় পশু কোরবানির প্রতিযোগিতার চেয়ে এখন অনেকেই ভাগে কোরবানির দিকে ঝুঁকছেন।

রাজধানীর এক ডেইরি ফার্মের কর্মকর্তা জানান, গত বছর ভাগে তার খামার থেকে ৫৭টি গরু বিক্রি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাগের ৬০টি গরু বিক্রি হয়েছে। আরো কয়েকটি গরুর ভাগ নেয়ার অর্ডার পেয়েছেন। তার হিসাবে গতবারের তুলনায় তার খামারে এবার ভাগে কোরবানির জন্য গরু বিক্রি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া তিনি জানান, বড় গরুর তুলনায় দেড় লাখ টাকার আশপাশের গরুর চাহিদা অধিক।

প্রতিযোগিতা করে বড় বড় গরু কমেছে। মানুষ এখন মাঝারি এবং ছোট গরুতেই ঝুঁকছে। প্রতিপালনের ব্যয় বাড়ায় পশুর দামও বেড়েছে। আবার মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় অনেকের জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই ব্যয় সংকোচনের পথ খুঁজছে। বড় গরুর চাহিদা একেবারেই নেই, তা কিন্তু নয়। তুলনা করলে গত তিন বছরে এটা কমেছে। খাসির ক্ষেত্রেও বড়র তুলনায় মাঝারিগুলোর চাহিদা বেশি। বেশ কয়েকজন খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের খাসির চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, গত এপ্রিলে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। যেটি ২০১০-১১ অর্থবছরের পর সর্বোচ্চ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং তার আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

২০০ থেকে ২৫০ কেজি ওজনের গরুর চাহিদা সর্বাধিক। এসব গরুর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। গত বছরের তুলনায় এ আকারের গরু বিক্রির প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশের মতো। মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানি করে। দেশে বিত্তবান মানুষের তুলনায় মধ্যবিত্ত বেশি। সেজন্য মাঝারি বা ছোট আকারের গরুর বিক্রি বেশি। ওজন অনুযায়ী গরুর দাম নির্ধারিত হয়। বিগত কয়েক বছর মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট। এতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে পশুপালনকারীর ব্যয় বেড়েছে। সেটি দামেও প্রভাব ফেলছে। এখন সেটি কোরবানিতেও প্রভাব তৈরি করছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় এবার বাজারে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু ও মহিষ রয়েছে। ছাগল ও ভেড়া আছে ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন