২৪ঘণ্টা অনলাইন : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে মানব মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি ও সংহতির ভিত্তিতে পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এর মহাপরিচালক কু দংইউ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের গতি দ্রুত বাড়ছে, তাই এর সঙ্গে সমাজের অভিযোজন নিশ্চিত করা জরুরি।
রোমে ভ্যাটিকান আয়োজিত “এআই এবং মানব মর্যাদার ভবিষ্যৎ: জনসংখ্যাগত ও কর্মসংস্থানগত পরিবর্তনের সেতুবন্ধন” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ভ্পারাটিকান সিটির লাজ্জো ল্যাটেরানেন্সে, যা পরিচালিত হয় পন্টিফিকাল ল্যাটেরান ইউনিভার্সিটি এবং পন্টিফিকাল একাডেমি ফর লাইফের উদ্যোগে।
কু দংইউ বলেন, “এআই যদি গ্রামীণ মানুষের সেবায় ব্যবহার না হয়, তবে ডিজিটাল বৈষম্য আরও বাড়বে।” তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তি শুধু শিল্প বা শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় এর প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান এআই বিপ্লব অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজারকে মৌলিকভাবে পুনর্গঠন করছে—যা অতীতের শিল্প বিপ্লবের মতোই গভীর পরিবর্তন আনছে।
এফএও প্রধান জানান, সংস্থাটি ইতোমধ্যে “রোম কল ফর এআই এথিকস”-এ অংশ নিয়ে এআই-এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অবশ্যই মানবতার সেবা করতে হবে, দুর্বলদের রক্ষা করতে হবে এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কৃষক, জেলে, পশুপালক এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের গ্রামীণ জনগণ—এআই সুবিধা থেকে যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
কু দংইউ “সহযোগী বুদ্ধিমত্তা” বা “অ্যালাইড ইন্টেলিজেন্স” ধারণার কথা তুলে ধরেন, যেখানে মানব বুদ্ধিমত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশগত ও সামাজিক জ্ঞান একসঙ্গে কাজ করবে একটি নৈতিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য।
তিনি বলেন, “এআই মানুষের সক্ষমতাকে বাড়াতে পারে, কিন্তু মানুষকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।”
এফএও মহাপরিচালক তার সংস্থার ডিজিটাল কৃষি ও এআই রোডম্যাপের কথাও তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে কফি উৎপাদন, কৃষক পরামর্শ, উদ্যানপালন এবং মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এটি সংস্থার “ফোর বেটারস” কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন নিশ্চিত করা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই বিস্তৃত হলেও তা যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক না হয়, তাহলে নতুন ধরনের ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাই কৃষক ও ভোক্তাদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তির ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তব্যের শেষাংশে কু দংইউ বলেন, “আমাদের এআই-কে মানুষের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, শাসক হিসেবে নয়। আমরা প্রযুক্তির উচ্চতা নয়, বরং এর সুফল কতটা মানুষের মধ্যে ভাগ হচ্ছে—সেটাই বিবেচনা করা উচিত।”
তিনি বলেন, “আসুন আমরা একসাথে এই সেতু পার হই—ভয় থেকে আশার দিকে, বিভাজন থেকে সংহতির দিকে—যাতে এআই সকলের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে পারে।”
