শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

ইবোলা মোকাবিলায় ইউনিসেফের উদ্দ্যোগ

প্রকাশিত - ০৩ জুন, ২০২৬   ০৬:০৩ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে ইউনিসেফ। পূর্ববর্তী প্রাদুর্ভাব থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংস্থাটি তাৎক্ষণিক জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি সম্প্রদায়-ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ইবোলা একটি ভাইরাস। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, তীব্র ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং পেশিতে ব্যথা। রোগের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বমি, ডায়রিয়া, ফুসকুড়ি এবং শরীরের ভেতর ও বাইরে রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দেয়।

ইউনিসেফ, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), জীবাণুনাশক, সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পানির ট্যাংকসহ জরুরি সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। ২ হাজারের বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রাদুর্ভাবের গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনিসেফ তাদের সর্বোচ্চ মানবিক সংকট শ্রেণিবিভাগ ‘লেভেল-৩ ইনস্টিটিউশনাল ইমার্জেন্সি’ সক্রিয় করেছে। এর ফলে দ্রুত তহবিল বরাদ্দ, কর্মী মোতায়েন এবং সম্মুখসারির কার্যক্রমে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

ইউনিসেফের মতে, ইবোলা প্রতিরোধে সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয় নেতা, ইবোলা থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তি, যুব ও নারী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয় রেডিও ও সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি দলগুলোকে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। যাতে তারা আক্রান্তদের বাড়ি, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিরাপদভাবে জীবাণুমুক্ত করতে পারে। পাশাপাশি জনসমাগমস্থলে হাত ধোয়ার স্টেশন স্থাপন এবং তাপমাত্রা পরীক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদান করছে। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ দল পরিবারগুলোকে চিকিৎসা, নিরাপদ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, বাড়ি জীবাণুমুক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্তকরণে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলার বিস্তার রোধে দ্রুত শনাক্তকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ইউনিসেফ সেই লক্ষ্যেই সরকার ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।