২৪ঘণ্টা অনলাইন: ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন ট্রেন দে আরাগুয়ার প্রধান হেক্টর রুথেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস, ওরফে ‘নিনো গেরেরো’, মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
১৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) গেরেরোকে লক্ষ্য করে একটি প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
পোস্টে ট্রাম্প একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন, যেখানে একটি সবুজ রঙের ভবন ও পাশের টিনশেড ধ্বংস হতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
নিনো গেরেরো দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী অপরাধী চক্র হিসেবে পরিচিত এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, মানবপাচার, মাদকপাচার এবং ভাড়াটে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন ট্রেন দে আরাগুয়াকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ও অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একটি কারাগারভিত্তিক অপরাধী চক্র থেকে ট্রেন দে আরাগুয়াকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে পরিণত করেন গেরেরো। তার নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যক্রম কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও চিলিসহ একাধিক দেশে বিস্তৃত হয়। গেরেরোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছিল। তাকে গ্রেপ্তারে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
একসময় ভেনেজুয়েলার তোকোরন কারাগারকে নিজের ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন গেরেরো। সেখানে চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ ও সুইমিং পুলসহ নানা সুবিধা গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলা সরকার ওই কারাগারের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে অভিযান চালালে তিনি পালিয়ে যান।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেন দে আরাগুয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। তবে এসব অভিযানের বৈধতা ও মাদকপাচারের অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গেরেরোর মৃত্যুর দাবি করা হলেও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
