শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু সংকটেই ইউরোপে সর্বকালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহ

প্রকাশিত - ২৬ জুন, ২০২৬   ০৪:০৩ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন : পশ্চিম ইউরোপ পুড়িয়ে দেওয়া এই তাপপ্রবাহ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র ও সবচেয়ে বিস্তৃত, এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু সংকট ছাড়া এটি ঘটাই সম্ভব ছিল না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ইউরোপের ৮৫০টি বড় শহরের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মিশ্রণে সবচেয়ে ভয়াবহ তাপজনিত চাপের মুখে পড়েছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে জুন মাসের রেকর্ড তাপমাত্রা ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (সমারসেটে) রেকর্ড করা হয়েছে, এবং পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে জরুরি চিকিৎসা সেবার চাহিদা তীব্রভাবে বেড়ে গেছে, কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
২০২২ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে তাপজনিত কারণে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) জোটের বিশ্লেষণ বলছে, ২০০৩ সালে এ ধরনের তাপপ্রবাহ হলে তা ২ ডিগ্রি কম উষ্ণ হতো, আর ১৯৭৬ সালের আলোচিত তাপপ্রবাহের তুলনায় হতো ৩.৫ ডিগ্রি কম উষ্ণ। বর্তমানে রাতের অস্বস্তিকর গরম তাপমাত্রা ২০০৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি সম্ভাব্য হয়ে উঠেছে।

ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. থিওডোর কিপিং বলেন, "ইউরোপের এত বিস্তৃত অঞ্চলে এর আগে কখনো এত তীব্র ও বিস্তৃত তাপপ্রবাহ হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া জুন মাসে এমন ঘটনা ঘটাই সম্ভব ছিল না।" তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ইউরোপের অন্তত ১০ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার মুখে পড়েছিলেন।
জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর প্রতি আসক্তির কারণে বেড়েই চলেছে, যদিও সমাধানও স্পষ্ট জ্বালানি রূপান্তর ও বনাঞ্চল রক্ষা।

যুক্তরাজ্যে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। ২৪ জুন লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সেবা একদিনে রেকর্ড ৬৪১টি প্রাণঘাতী জরুরি কল পেয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনামূলক কম তীব্র এক তাপপ্রবাহে মাত্র ১২টি শহরেই তিন দিনে ২,৩০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল, যাদের দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যুই জলবায়ু পরিবর্তন না হলে ঘটত না বলে জানিয়েছেন গবেষক ফ্রেডেরিকে অটো।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।