শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

ক্ষুদ্র ব্যবসায় থাকছে না 'প্যাকেজ ভ্যাট'

প্রকাশিত - ২৯ জুন, ২০২৬   ০৮:২৮ এএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন : ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট বা বহুল আলোচিত 'প্যাকেজ ভ্যাট' আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে সরকার। খুচরা ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তি এবং এসএমই খাতে অস্থিরতার আশঙ্কাই এর মূল কারণ। বাজেট আইন পাসের ঠিক আগমুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত এলো।

স্বস্তির খবর এসেছে তামাক খাতেও। আমদানি পর্যায়ে নিকোটিন পাউচের ওপর প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধি বাতিল হচ্ছে। বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্কই বহাল থাকছে। সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানি কাঁচামালের ওপর বাড়তি করও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

ঘটনার শুরু কয়েক সপ্তাহ আগে। বর্তমানে বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার থাকা খুচরা প্রতিষ্ঠানকেই ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয়। এর নিচে থাকা ছোট দোকানগুলো এতদিন ভ্যাটের আওতার বাইরে ছিল। কিন্তু নতুন বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ১ জুলাই থেকে টার্নওভার নির্বিশেষে সব খুচরা ব্যবসাকেই ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এই প্রস্তাব মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় লাখো ছোট ব্যবসায়ীর মধ্যে।

তাঁদের আশঙ্কা ছিল সরল। পরিচালন ব্যয় বাড়বে। প্রতিদিনের ব্যবসায় বাড়বে ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির ঝুঁকি। সরকারি সূত্র বলছে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই এই বিধান বাদ দিতে নির্দেশ দেন। একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার ভাষ্য, বাস্তবায়নে জটিলতা হতো। পাশাপাশি অনেক মাঝারি প্রতিষ্ঠানও সাধারণ ভ্যাটব্যবস্থা এড়িয়ে প্যাকেজ ভ্যাটের ছায়ায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করতে পারত। এসব বিবেচনাই শেষ পর্যন্ত সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করে।

প্যাকেজ ভ্যাট নতুন কোনো ধারণা নয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর পরিশোধ সহজ করতে একসময় এই ব্যবস্থাই চালু ছিল। পরে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় ভ্যাটব্যবস্থা এলে তা তুলে দেওয়া হয়। এখন সেই পুরোনো আতঙ্ক নতুন রূপে ফিরে আসার চেষ্টাই রুখে দিল ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রতিরোধ।

এই লড়াইয়ে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠ ছিল বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির। এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, "ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অধিকাংশেরই ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের সক্ষমতা নেই।" তাঁর যুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ভ্যাটব্যবস্থার আওতায় আনলে হাজারো ব্যবসায়ী অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হবেন। পুরো এসএমই খাতেই তখন তৈরি হবে অস্থিরতা।

সংগঠনের দেওয়া পরিসংখ্যানও বলছে আসল গল্পটা কোথায়। দেশে বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আছে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গত অর্থবছরে আদায় হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ভ্যাটের প্রায় ৬০ শতাংশই এসেছে মাত্র ১০৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) আওতাধীন। অর্থাৎ প্রকৃত আয় আসে হাতে গোনা কিছু বড় প্রতিষ্ঠান থেকেই। ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ না বাড়িয়ে এনবিআরের দৃষ্টি সেখানেই নিবদ্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করছে সংগঠনটি। তারা দাবি জানিয়েছে ভ্যাট অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নের, প্রকৃত করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর এবং বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নজরদারির।

এর মধ্যেই আরেকটি স্বস্তির খবর মিলছে জমি-সংক্রান্ত লেনদেনে। ভূমির মালিকদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূলধনি মুনাফা কর কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টিও এখন সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে স্বস্তি পাবেন আরও একটি বড় অংশের সম্পত্তি-মালিক।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন