২৪ঘণ্টা অনলাইন: যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ঝড়টির প্রভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্বীপাঞ্চলজুড়ে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) বাভিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ঝড়ের কারণে সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ রোটা দ্বীপে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
রোটার মেয়র কার্যালয় বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, ধ্বংসাত্মক ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও ঝড়জনিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডল জানিয়েছেন, সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে, যা ঝড়টির তীব্রতার প্রমাণ বহন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। গত এপ্রিলেও সুপার টাইফুন সিনলাকু এ অঞ্চলে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) বাভিকে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসযুক্ত ঝড়কে সুপার টাইফুন বলা হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, বাভির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার হারিকেনের সমতুল্য হতে পারে।
সোমবার দিনভর ঝড়ের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এনডব্লিউএস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
