২৪ঘণ্টা অনলাইন: ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের লিমাহ উপকূল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে দক্ষিণমুখী একটি ট্যাংকারের বাম পাশে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ না করলে কিংবা নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তার দায়ও ইরান নেবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইরানের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আয়োজিত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপ। সেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এর জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি সেন্টকমের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা বাইরের শক্তির সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে নয়, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক হামলার কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে। সামুদ্রিক তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার ঘটনাও রয়েছে।
যদিও গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে, তবুও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৪৫টির মতো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে, যা সংঘাত শুরুর আগের দৈনিক প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় অনেক কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান উপকূলে সর্বশেষ হামলার ঘটনা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
