২৪ঘন্টা অনলাইন : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নাটকীয়ভাবে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচের রেফারিং নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক স্বার্থে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চায় ফিফা।
৭জুলাই অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল মিশর। দুই গোলের লিড নিয়েই তারা বিরতিতে যায়। তবে শেষ দিকে মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, "ফিফা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আর্জেন্টিনা ও মেসিকে বিশ্বকাপে রাখতে চায়। যদি আগে থেকেই বিজয়ী ঠিক করা থাকে, তাহলে অন্য দেশগুলোকে অংশ নিতে বলা হয় কেন?"
রেফারিং নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে গেছে।
হাসান বলেন, "এটি ছিল কারচুপিপূর্ণ একটি ম্যাচ। পুরো বিশ্ব দেখেছে কী ঘটেছে। আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো খেলেছি, কিন্তু ফুটবল সব সময় ন্যায্য থাকে না।"
মিশরের কোচের দাবি, ম্যাচের শেষ দিকে তাঁর দল স্পষ্ট একটি পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু রেফারি সেটি দেননি। পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জিকোর করা একটি গোলও অফসাইডের অভিযোগে বাতিল করা হয়, যা তাঁর মতে বৈধ গোল ছিল।
তিনি বলেন, "আমাদের একটি পরিষ্কার পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। জিকোর গোলটিও অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।"
হতাশা থেকে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচ না দেখার ঘোষণাও দেন মিশরের এই কোচ। তাঁর ভাষায়, "প্রতিবাদ হিসেবে আমি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো দেখব না। আমি আমার খেলোয়াড়দের বলেছি, তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষেও সমানতালে লড়াই করেছে। তাদের নিয়ে আমি গর্বিত।"
এদিকে ম্যাচটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রেফারিং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থক মিশরের দাবির সঙ্গে একমত হলেও, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মনে করছেন ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবলই জয় এনে দিয়েছে।
তবে হোসাম হাসানের অভিযোগের বিষয়ে ফিফা কিংবা ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি দল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
