২৪ঘন্টা অনলাইন: ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় টানা হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নতুন করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর ও বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুশেহরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক অবকাঠামো থাকায় হামলাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বুশেহরে অন্তত চারটি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে বন্দর আব্বাস এলাকায় পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী ৬০ দিন হামলা বন্ধ রাখার কথা থাকলেও সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা বেড়েছে।
এদিকে সোমবার রাতের হামলায় হরমুজগান প্রদেশে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূ রয়েছেন।
পরিবারপ্রধান রাঙ্গের হাসানজাদেহ জানান, হামলার সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর পান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ দশমিক ২৯ ডলার বেড়ে ৮৩ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬ দশমিক ৭৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাই তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর জবাবে এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অবরোধমূলক ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
