২৪ঘন্টা অনলাইন: রান দ্রুত আলোচনার টেবিলে না ফিরলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তারা যদি আলোচনায় না আসে এবং কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করব, সেতুগুলোও উড়িয়ে দেব।”
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের সময় টানা চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছিল। এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কার্গো জাহাজের ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও পরে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প আরও বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোকে আপাতত অগ্রাধিকার না দিলেও পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তার দাবি, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ইরানি পক্ষকে সমঝোতায় পৌঁছানোর বার্তা দিয়েছেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, যুদ্ধের সময় বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনেও এ ধরনের স্থাপনায় হামলার বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে এসেছে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হলে এ সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়বে।
