২৪ঘন্টা অনলাইন : মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
২৩ জুলাই সকালে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা যারা করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে আন্দোলনকারীরা শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকেও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা দাবি করেছেন।
বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ আবারও ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ২৩ জুলাই সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকহাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ ও শিবাজি স্টেডিয়াম।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গতি পাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জনসমাগম বেড়েছে। মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় হাজারো অফিসগামী ও শিক্ষার্থীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেককে বাসের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে, আবার কেউ বিকল্প হিসেবে ট্যাক্সি ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবহার করছেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
