২৪ ঘণ্টা অনলাইন : ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা ১২ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলন ইতোমধ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এতে সমর্থন জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
গত ৫ জুলাই ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই আন্দোলনের সূচনা হয়। ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে রাজ্য সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার রাঁচির মহকুমা কর্মকর্তা (এসডিও) কুমার রজত আন্দোলনস্থলে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহের কথা জানান। এ জন্য আন্দোলনকারীদের পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের অনুরোধ করা হয়।
ঝাড়খণ্ড সরকার জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিআইডি অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা গণমাধ্যম ও ক্যামেরার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যভাবে অনুষ্ঠিত হতে হবে।
এদিকে আন্দোলনকারীরা ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করলেও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সিআইডির তদন্ত ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে। বুধবার পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা টিডিপিএলের হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে লখনউ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) ডিজিটাল তথ্য, আবেদনপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে অনিয়মের উৎস খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জনমুখী চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সিজেপির সদস্যরা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াবেন।
