২৪ ঘণ্টা অনলাইন : হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল বা বাধ্যতামূলক ফি আরোপের বিরোধিতা করে জাতিসংঘের কাছে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্বের আটটি শীর্ষস্থানীয় শিপিং সংস্থা। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং নৌপরিবহনের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি তৈরি করবে।
৬ আগস্ট কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজের কাছে পাঠানো চিঠিতে সংস্থাগুলো হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা করতে জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে।
চিঠিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য বাধ্যতামূলক টোল বা পরিষেবা ফি আরোপ আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নৌচলাচলের নীতিমালার পরিপন্থী। এতে শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত হবে না, ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথেও একই ধরনের নজির তৈরি হতে পারে।
শিপিং সংস্থাগুলোর মতে, হরমুজে স্থায়ী টোল ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির ওপর পড়বে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা কোনো রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। বৈশ্বিক সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে এ অধিকার সংরক্ষণ করা জরুরি।
যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে এশিয়ান শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিল (বিমকো), ক্রুজ লাইনস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন, ইউরোপিয়ান শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিং, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ড্রাই কার্গো শিপওনার্স, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট ট্যাংকার ওনার্স এবং ওয়ার্ল্ড শিপিং কাউন্সিল।
এর আগে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজও আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহনের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তাঁর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক প্রণালিতে এককভাবে কোনো দেশের টোল বা শুল্ক আরোপের অধিকার নেই।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করে। পরে পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে সেই কাঠামোকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।
