শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

২০৩১ সালে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রপ্তানি

প্রকাশিত - ২৩ আগস্ট, ২০২৬   ০১:২৬ পিএম
webnews24

২৪ ঘণ্টা অনলাইন : দেশের জুয়েলারি খাতকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটি ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সোনা ও হীরার অলংকার রপ্তানি করে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে চায়।

২২ আগস্ট রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল-২০২৬’-এ সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান লিখিত বক্তব্যে এ পরিকল্পনার কথা জানান।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগর এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা জুয়েলারি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

সংগঠনটি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় অলংকারের রপ্তানি বাড়াতে নীতিমালার সংস্কার ও আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। বাজুসের দাবি, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে অলংকার আমদানির সুযোগ বাড়ানো গেলে স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি অলংকারের দাম অন্তত ৩০ হাজার টাকা কমতে পারে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়ন হলে সরকার প্রতিবছর এ খাত থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে। পাশাপাশি অপ্রদর্শিত সোনা এককালীন ফি দিয়ে বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে এককালীন ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে বাজুস।

দেশীয় দক্ষ কারিগরদের কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি আধুনিক জুয়েলারি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কারখানায় সরাসরি ৫০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে আরও এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লী’ নামে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি করেছে বাজুস। সেখানে আধুনিক জুয়েলারি কারখানার পাশাপাশি হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট চালু হলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের হীরার অলংকার রপ্তানি সম্ভব হবে।

সংগঠনটির প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংস্কার ও আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সোনা ও হীরার অলংকার রপ্তানি থেকে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করতে চায় বাজুস।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন