২৪ঘণ্টা অনলাইন: গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ঠেকাতে দেশটির কয়েকটি স্থাপনায় সীমিত হামলার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা এ বিষয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
১ সেপ্টেম্বর তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক্সিওস জানায়, হরমুজ প্রণালির দ্বীপগুলোতে ইরান যেন রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সমর্থন জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও ট্রাম্প তখন হামলার অনুমোদন দেননি। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তিনি অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই মাসে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা, সমুদ্রপথে মাইন অপসারণ এবং জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ওই পথে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন বেড়েছে এবং ট্যাংকারে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমেছে।
তবে ইরান আবারও রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি একটি জাহাজকে পাহারা দেওয়ার সময় মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধবিমানটির জন্য কোনো বড় হুমকি তৈরি করতে পারেনি।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে বলে এক্সিওস জানিয়েছে।
এর মধ্যে ইরানের জর্ডানকে লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
