২৪ঘণ্টা অনলাইন : উত্তর কোরিয়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য দুই তলাবিশিষ্ট নতুন একটি কেন্দ্র নির্মাণ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভবনটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ইয়ংবিয়নের অংশ। ভবনটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত ২৮টি সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার আরেকটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে সম্প্রসারিত একটি ভবনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পেয়েছে আইএইএ। কারণ ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার পরিদর্শকদের বহিষ্কারের পর থেকে উত্তর কোরিয়ায় সংস্থাটির সরাসরি কোনো উপস্থিতি নেই।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ধারাবাহিক সম্প্রসারণ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন এসব অগ্রগতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইএইএ জানায়, গত ৩ জুন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। পরে সেটিকে ইয়ংবিয়নের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরিদর্শনের সময় কিম দেশটির পারমাণবিক উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসন এলাকাতেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইএইএর মতে, সেখানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই নতুন কার্যক্রমের ইঙ্গিত মিলেছে। এর আগে ২০২৪ সালে কাংসনে একটি অতিরিক্ত ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বড় উদ্বেগের জায়গা হলো দেশটির গোপন স্থাপনাগুলো। ইয়ংবিয়নের বাইরে কাংসনসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও অঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছয়বার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। সর্বশেষ পরীক্ষা হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। একই সময়ে দেশটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে।
চলতি বছরের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। তার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ বন্ধের পথ খুঁজে বের করা। তবে এখন পর্যন্ত পিয়ংইয়ং এ প্রস্তাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি।
