শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

নাসার ক্যামেরায় ধরা পড়ল অপরূপ ‘লায়ন নেবুলা’

প্রকাশিত - ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬   ০১:০২ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের (জেডব্লিউএসটি) ক্যামেরায় সম্প্রতি ধরা পড়েছে এক শ্বাসরুদ্ধকর ছবি। মহাকাশের অনন্ত অন্ধকারে যেন উঁকি দিচ্ছে এক বিশাল সিংহের মুখ! আর এই অপরূপ মহাজাগতিক সৌন্দর্যের কেন্দ্রে জ্বলজ্বল করছে একটি মৃতপ্রায় তারা।

২০০০ সালে নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ প্রথমবারের মতো এনজিসি ২৩৯২ বা লায়ন নেবুলার ছবি তুলেছিল। তখন এর চারপাশের ধূমকেতুর মতো দেখতে বস্তুর বলয়টিকে সিংহের কেশরের মতো মনে হয়েছিল। এবার ওয়েবের অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ক্যামেরা (নিরক্যাম ও মিরি) ব্যবহার করে এই নীহারিকার আরও স্পষ্ট ও বিস্তারিত ছবি পাওয়া গেছে। নতুন ছবিতে মহাজাগতিক ধূলিকণা ও আয়নযুক্ত গ্যাসের মেঘগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। হাজার হাজার বছর ধরে গ্যাস ও ধুলো মিলে এমন চমৎকার আকৃতি তৈরি করেছে, যা এখনো অবিরাম বদলাচ্ছে।

লায়ন নেবুলার ঠিক কেন্দ্রে থাকা মৃতপ্রায় তারাটি দেখতে অনেকটা সিংহের ‘নাকের ডগার’ মতো। বিশাল ভরের তারারা সাধারণত সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোট ভরের তারারা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে এবং নিজেদের বাইরের স্তরগুলো মহাকাশে ছুঁড়ে মারে। এর ফলেই গ্যাস ও ধুলোর এমন খোলস বা ‘প্ল্যানেটারি নেবুলা’ তৈরি হয়। স্তরগুলো খসে পড়ার পর কেন্দ্রে কেবল অত্যন্ত উত্তপ্ত একটি ‘শ্বেত বামন’ (White dwarf) পড়ে থাকে।

লায়ন নেবুলার ক্ষেত্রেও একটি অক্সিজেন সমৃদ্ধ তারা মারা যাওয়ার পর এর শ্বেত বামনটি রয়ে গেছে। এর তীব্র বিকিরণ ভেতরের উপাদানগুলোকে পুড়িয়ে আয়নযুক্ত গ্যাসের এক বিশাল বুদবুদ তৈরি করছে। আর সেই বুদবুদটি সম্প্রসারিত হয়েই মহাকাশে তৈরি করেছে এই জাদুকরী সিংহের মুখ!
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন