২৪ঘণ্টা অনলাইন: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন। সম্মেলন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে শহরটির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সাজানো হয়েছে নতুন করে। এরই মধ্যে বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতের পথে থাকা একটি বস্তি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
নয়াদিল্লির ‘বসন্ত বিহার কুলি ক্যাম্প’ নামের বস্তিটি বিশ্ব নেতাদের চলাচলের পথের পাশে অবস্থিত। তাদের সফরের আগে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বস্তিটির সামনে কাপড়ের বড় পর্দা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওয়ানইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের সময়ও একইভাবে বস্তিটি কাপড় দিয়ে আড়াল করা হয়েছিল। এবার ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আবারও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বস্তিবাসীদের কয়েকজনের অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের কাছ থেকে নয়াদিল্লির দারিদ্র্যের চিত্র আড়াল করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কাপড়ের পর্দা টানানোর কারণে বস্তির দৃশ্য বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও ছোট ব্যবসায়ীদের কাজেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
এই বস্তির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুরি, ছোট ব্যবসা ও অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক কাজের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চলাচলে সামান্য বিধিনিষেধও তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে এ উদ্যোগের পক্ষে মতও রয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় বিশ্বের নজর থাকে আয়োজক শহরের দিকে। তাই নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক।
তবে বস্তি ঢেকে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে নয়াদিল্লির সৌন্দর্য তুলে ধরা হচ্ছে, নাকি শহরের দারিদ্র্য ও বাস্তব চিত্র আড়াল করা হচ্ছে।
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে রাজধানীর সাজসজ্জার মধ্যেই বস্তি আড়াল করার এই ঘটনা সামাজিক বৈষম্য ও নগরজীবনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
