২৪ঘণ্টা অনলাইন: আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী ও টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানি এয়ারলাইনসকে সেবা দিলে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
২১ সেপ্টেম্বর সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের পর কোনো ইরানি বিমান বিদেশের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেখানে জ্বালানি, ল্যান্ডিং সেবা বা টিকিট বিক্রির মতো সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে।
এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। একই সময়ে জর্জিয়াও ইরানি ক্যারিয়ারগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। তুরস্কের সিদ্ধান্তের পর ইরানের মহান এয়ার দেশটিতে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বিমান চলাচল খাতের ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর মধ্যে আগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসও ছিল।
বেসেন্টের এই বক্তব্য আসে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক বৈঠকের পর। বৈঠকে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার চীন হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন আরও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন হুমকিটি সরাসরি সব দেশের আকাশসীমা ইরানি বিমানের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবা না দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সীমিত করার চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
