২৪ঘণ্টা অনলাইন : নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। কয়েকটি দেশ ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন সেবা দেওয়া বন্ধ করায় একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিদেশগামী যাত্রীদের অনেকেই এখন স্থলপথে যাত্রা করছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্বল্পমেয়াদি সময়সীমা শেষ হয়। এরপর তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সঙ্গে ইরানের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওমান, আজারবাইজান ও জর্জিয়া ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে নিজেদের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। বাগদাদ বিমানবন্দরেও ইরানি ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে নাজাফে বিমান যোগাযোগ এখনো চালু আছে।
বিমান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় হাজারো যাত্রী স্থল সীমান্ত দিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তুরস্ক সীমান্ত এবং আর্মেনিয়াগামী বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ ও দীর্ঘ যানজটের খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কগামী বাসের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আকাশপথে বিকল্প কমে যাওয়ায় স্থলপথে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়ছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদরেজা এব্রাহিমপুর প্রতিবেশী দেশগুলোর সমন্বিতভাবে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সেবা বন্ধ করাকে নিষেধাজ্ঞার নতুন মাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, আগের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বছরে ৩০ কোটি ডলারের বেশি ওভারফ্লাইট ফি হারিয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও বিমান পরিবহন খাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
