শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

প্রকাশিত - ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬   ০৯:৪০ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন: দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবারের মধ্যে দেশটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০১১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলেও ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর ২০১৪ সালে আবারও ইরাকে ফিরে আসে মার্কিন বাহিনী। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তারা ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের নেওয়া প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তই এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে। ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ হওয়া দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

তবে ইরাকের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি চলে গেলে নিরাপত্তায় শূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামিক স্টেটের ঘুমন্ত সেলগুলো আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

কুর্দি কমান্ডার সিরওয়ান বারজানির মতে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য, রসদ ও ড্রোন সহায়তা না থাকলে ইসলামিক স্টেট নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে ইসলামিক স্টেটের একটি সন্দেহভাজন সেল শনাক্ত করা হয়েছে। এতে গোষ্ঠীটি এখনো নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন কর্মকর্তারা।

২০০৩ সাল থেকে ইরাকে চলা মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।