২৪ঘণ্টা অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে আছেন ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০ বছর বয়সী এই নারীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ প্রয়োগ করা হয় পাইকের শরীরে। তবে এরপরও তিনি জীবিত থাকায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পিভি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তারা খুব বেশি তথ্য পাননি। তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সেটিও এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি জীবিত আছেন।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পাইকের শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ সময় শুধু তার বাম হাতেই অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন বিষয়টি স্পষ্ট হলে পর্যবেক্ষকদের একটি পর্দার আড়ালে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আইনজীবীদের কাছেও বিস্তারিত তথ্য নেই।
১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাইকের আইনজীবীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে সাজা কার্যকরের অনুমতি দেয়।
ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যা ঘটেছে, তা অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছে এবং তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন এবং ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গভর্নর বলেন, এ ঘটনায় অনেক প্রশ্ন রয়েছে এবং অঙ্গরাজ্যের মানুষ সেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে তদন্তটি কে পরিচালনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন অবশ্য তাদের কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা অঙ্গরাজ্যের আইন ও নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রোটোকল অনুসরণ করেছে।
এটি ২০২৬ সালে টেনেসিতে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়েছিল, কারণ কর্মকর্তারা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন।
