২৪ঘণ্টা অনলাইন : দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত এবং বিমানটি বিধ্বস্তের চেষ্টার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাজানো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান হতে পারে।
তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। বরং সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইসরায়েলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে দায়ী করা, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানো এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি সাজানো হয়ে থাকতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073-এ ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের পর বিমানের কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এ সময় বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত ক্যাপ্টেনও ককপিটের দরজা খুলে অন্যদের ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এটিকে গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আহত পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে কো-পাইলটের যোগসূত্রের বিষয়ে তদন্ত এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ তত্ত্ব নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলবিরোধী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা পূর্বপরিকল্পনার সম্পর্ক ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফলে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছিল—এমন দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
