২৪ঘণ্টা অনলাইন : জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত করের প্রতিবাদে ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ রোববার আরও বড় আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বহু মানুষকে।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। রোববার বিক্ষোভের ঘটনায় ১৯৭ জনকে আটক করে পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশ নেন দেশটির বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, মিলানে প্রায় পাঁচ হাজার, তুরিনে তিন হাজার, বোলোনিয়ায় দুই হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
মিলানে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় শহরের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কারাবিনিয়েরি বাহিনীর একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতালির খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর তথ্যের বরাত দিয়ে স্কাই টিজি২৪ জানিয়েছে, গত দুই দিনের সহিংসতায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষতি হয়েছে।
তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রাপ্তবয়স্ককে এবং পেট্রোলবোমা বহনের অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, বোলোনিয়ায় রেলস্টেশনের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বিক্ষোভের নামে সহিংসতার নিন্দা জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তবে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের অধিকারের বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।
উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিক্ষোভের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণে আয়োজকদের আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব পার্লামেন্টে পুনরায় উত্থাপন করবে তাঁর দল ‘লিগ’।
মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণ বোঝা গেলেও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও শহরের সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তরুণদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
