রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে তাণ্ডব, ৬ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশিত - ০১ নভেম্বর, ২০২৬   ০৬:০৬ পিএম
webnews24
সংগৃহীত

২৪ঘন্টা অনলাইন: গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকদের অবরোধে কোনাবাড়ী থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় যমুনা ব্যাংক, পুলিশ বক্স, পোশাক কারখানার ফটক ও পুলিশের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর দুপুর আড়াইটার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রোববার সকাল থেকেই কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে কোনাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায়। শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করলে দুই পাশের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন। চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংক ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি পোশাক কারখানার প্রবেশপথ ও ফটকেও হামলা চালানো হয়। মৌচাক কাটার এলাকায় পুলিশের একটি বক্স ভাঙচুর করা হয়। কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈর, দুই দিক থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি এবং টাঙ্গাইল থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করেন।

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। প্রয়োজনে বিজিবির সদস্যসংখ্যা ও প্লাটুন আরও বাড়ানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে আন্দোলনের মধ্যেই কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের পোশাক কারখানার ঝুট গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ও তীব্র যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরে বিজিবির পাহারায় মহাসড়কের উল্টো দিক দিয়ে ইউনিট দুটি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দীর্ঘ সময় অবরোধের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে গেলে পুলিশ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি এবং টাঙ্গাইল থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
২৪ঘন্টা অনলাইন: বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন ১৩৩ জন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার জয়মনিরঘোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত...
জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন ও দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি, মাছের ঘের, বসতবাড়ি ও স্থানীয় অর্থনীতি।
রাজধানী ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের সমস্যা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল, বর্জ্য ফেলা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে খাল ও জলাশয়। এসব জলাধার সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছে না। তারা বলছেন, শুধু ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং খাল পুনরুদ্ধার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জলাশয় সংরক্ষণ করা গেলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও সহজ হবে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাস থেকে জ্বলে ওঠা আগুন টানা চার দিন ধরে জ্বলছে। গ্যাসের নির্গমন বন্ধ না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ বর্গমিটার এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
কার্ডধারীদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়