২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা। এরই মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে।
যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ১ নভেম্বর ইরানি প্রতিনিধিরা ফিরে গেছেন। তবে আলোচনা ভেঙে যাওয়া কিংবা কোনো মতবিরোধের কারণে তাঁরা দোহা ছেড়েছেন—এমনটি নয় বলে জানিয়েছেন আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা।
২ নভেম্বর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ঘুরছে। এ বিষয়ে মতামত নেওয়ার পর পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে খসড়া প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধই আলোচনার মূল বিষয়
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দফার পরিকল্পনা। গত সেপ্টেম্বরে তৈরি এই পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দোহায় অবস্থান করছিলেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের দাবিগুলোর স্বীকৃতি এবং দেশটির প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া কিংবা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাও কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাত দিনের পরিকল্পনা দুই দিনে বাস্তবায়নের প্রস্তাব
সমঝোতার উদ্যোগে সময়সীমা কমানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি চালুর জন্য প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তবে ইরানের আগের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে নতুন খসড়া প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে সংঘাতের শঙ্কা
কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন শেষে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন হয় কি না, তা নিয়ে নজর রাখছে তেহরান।
এ বিষয়ে ইরানের মুখপাত্র বাঘাইয়ের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশা তাদের নেই।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তেহরানের সঙ্গে আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সব মিলিয়ে দোহায় আলোচনা শেষ হলেও যুদ্ধের অবসান এখনো নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত নিরসনের পরবর্তী কূটনৈতিক পথ।
