বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
প্রতিদিন পরিমিত কলা খাওয়া হৃদযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আঁশ ও ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমাণ বুঝে খাওয়া এবং কিডনি রোগীদের পটাশিয়াম গ্রহণে সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রতিদিন একটি কলা খেলে শরীরে যে উপকার হয়

প্রকাশিত - ০৩ নভেম্বর, ২০২৬   ১১:৪০ পিএম
webnews24
ছবি : সংগৃহীত

২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : সহজলভ্য ফল হিসেবে কলার জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। সকালের নাশতা, বিকেলের হালকা খাবার কিংবা ব্যায়ামের পর—বিভিন্ন সময়েই খাওয়া যায় এই ফল। তবে প্রতিদিন কলা খেলে ওজন বাড়ে কি না, রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘প্রিভেনশন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও ভিটামিন বি-৬। এসব উপাদান হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।

কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে, এর খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিমিত কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া কলার আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমাতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে কলা রাখা যেতে পারে।

কলায় প্রাকৃতিক চিনি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এটি খাওয়া নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। তবে কলার আঁশ শর্করা শোষণের গতি ধীর করতে সহায়তা করে। তাই পরিমাণ ও পাকার মাত্রা বিবেচনায় রেখে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব।

যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তারা কলার সঙ্গে চিনি ছাড়া দই কিংবা এক মুঠো বাদাম খেতে পারেন। এতে খাবারে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত হয়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কলার পরিমাণ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারণ করা জরুরি।

পরিমিত কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, গ্যাস কিংবা হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের খাদ্যআঁশ গ্রহণের অভ্যাস কম, তাদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হতে পারে।

কিডনি রোগীদের জন্যও কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করা কঠিন হতে পারে। এতে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কিডনি রোগীদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খাওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, প্রতিদিনের খাবারে কলা রাখা যেতে পারে। তবে শুধু একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মধু রাখতে পছন্দ করেন। তবে বাজারে মধু কেনার সময় এর বিশুদ্ধতা, গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
জ্বর হলেই গলা ব্যথা, গায়ে ব্যথা দোসর হয়। এমন সময়ে গরম খাবারে স্বস্তি মেলে। তবে ঘন ঘন চা-কফি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এই সময়ে এমন খাবার বেছে নিন যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
ওজন বেড়েছে। উৎসবের অজুহাতে ভালমন্দ খেয়েছেন, তার প্রভাব শরীরে দেখা দিতেই পারে। তাই এই সব বাড়তি ক্যালোরি দ্রুত ঝেরে ফেলা জরুরি। নিয়মিত যোগাসন সব সময়েই শরীরের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। কোন কোন ব্যায়াম করলে ওজন কমবে, তা জেনে রাখা জরুরি।
চাইলে মাছের ডিম দিয়েও তৈরি করা যায় দারুণ সব পদ