২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ পচনশীল পণ্য সরিয়ে নিতে নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পাঁচটি কনটেইনারে থাকা প্রায় ১২৬ টন আপেল ও আদা বিক্রি করা হবে উন্মুক্ত নিলামে। এসব পণ্যের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের প্রকাশিত নিলাম বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাঁচটি কনটেইনারে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪০ কেজি পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি তাজা আপেল এবং ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি তাজা আদা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ নিলামসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত আগ্রহী ক্রেতারা অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পারবেন।
নিলামে ওঠা আপেল রাখা হয়েছে দুটি ৪০ ফুট কনটেইনারে। প্রতিটি কনটেইনারে রয়েছে ২৩ হাজার ৭২০ কেজি করে আপেল। এ দুই চালানের মোট সংরক্ষিত মূল্য ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা ৪২ পয়সা।
অন্যদিকে, তিনটি ৪০ ফুট কনটেইনারে রয়েছে আদা। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে ২৪ হাজার ৩০০ কেজি এবং অন্য দুটি কনটেইনারে ২৭ হাজার কেজি করে আদা সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আদার মোট সংরক্ষিত মূল্য ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা ৫৫ পয়সা।
সব মিলিয়ে পাঁচটি চালানের সংরক্ষিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৯ টাকা ৯৭ পয়সা।
নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ৫ নভেম্বর অফিস চলাকালীন সময়ে সরাসরি পণ্যগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পণ্যগুলো বর্তমান অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে। ফলে দরপত্র জমা দেওয়ার আগে পণ্যের পরিমাণ, গুণগত মান ও সংরক্ষণের অবস্থা নিজ দায়িত্বে যাচাই করতে হবে ক্রেতাদের।
নিলামে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ জামানত জমা দিতে হবে। এ অর্থ যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে কমিশনার, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম বরাবর পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট অথবা ডিমান্ড ড্রাফট আকারে দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময় শেষে ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় দরপত্র খোলা হবে। সর্বোচ্চ দর অনুমোদিত হলে ক্রেতাকে ডাকমূল্যের ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এরপর প্রচলিত নিয়ম মেনে পণ্য খালাস করতে পারবেন তিনি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলামের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন জানান, পচনশীল পণ্য দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকলে সেগুলোর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল হয়ে থাকে। এ কারণে দ্রুত পণ্যগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিলামের মাধ্যমে বন্দরের জায়গার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্যজট কমানো এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে।
পচনশীল এসব পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তিতে কাস্টমসের এ উদ্যোগ বন্দরের জায়গা ব্যবস্থাপনা ও আমদানি পণ্য খালাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
