২৪ঘন্টা অনলাইন: টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ধৃতদের টাকা জোগাতে বিদেশে পরিচালিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে মুম্বই পুলিশ। স্থানীয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
মঙ্গলবার বিশেষ বিচারক এসআর নাভান্দ এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া সুনেহা পণ্ডিতকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক ভাবে পুলিশের নথি অনুযায়ী, আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই সুনেহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থের উৎস, এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এবং পলাতক অভিযুক্তদের সম্পর্কে তথ্য পেতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
সুনেহা পণ্ডিত মূল অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের আত্মীয়— তিনি অনিলের ভাইয়ের স্ত্রী। অনিল একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের প্রধান বলে পুলিশের দাবি। এই মামলায় সুনেহাকে নিয়ে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সুনেহা অবগত ছিলেন। কারণ, তাঁর ফোন নম্বরের সঙ্গে অনিলের ভাই অভিষেকের নামে খোলা একটি এসবিআই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ পাওয়া গিয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই মামলার আর এক অভিযুক্ত হৃতিক কুমার ওরফে রোশনকে মোটরবাইক কেনার জন্য ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। অভিযুক্তদের কয়েক জন যে লজে ছিলেন, তার ভাড়াও ওই টাকা থেকে মেটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
১৮ অক্টোবর টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই ব্যক্তি। ভাঙা কাচের আঘাতে অভিনেতা সামান্য আহত হন। তাঁর গাড়িচালক এবং অভিনেতার ভিডিয়ো করছিলেন এমন এক ভ্লগারের গায়েও গুলি লাগে। হরিয়ানার কর্নল থেকে সুনেহাকে গ্রেফতার করে ট্রানজ়িট রিমান্ডে মুম্বই আনা হয়।
বিশেষ সরকারি আইনজীবী সুনীল গনজ়ালভেস আদালতকে জানান, তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত অভিষেক— যিনি অনিল পণ্ডিতের ভাই— তাঁর নামে একটি এসবিআই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সুনেহার ফোন নম্বর যুক্ত। পুলিশের আরও দাবি, অভিষেক একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটও পরিচালনা করতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কম্বোডিয়ার একটি ফোন নম্বরের সঙ্গে ওই ওয়ালেটের সংযোগ রয়েছে। নিজের প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখতে ডেনমার্কে সেট করা ভিপিএন ব্যবহার করা হত বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ওই ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে জমা হওয়া অর্থের উৎস ছিল তোলাবাজির টাকা। সেখান থেকে টাকা পাঠানো হত স্থানীয় এসবিআই অ্যাকাউন্টে। আগে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তেরা ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত কিউআর কোড এবং ইউপিআই আইডি ব্যবহার করে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতেন বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের অগস্ট থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টে ৪৭ লক্ষ ২৬ হাজার টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরকারি আইনজীবী আদালতে বলেন, “এই অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রেফতার হওয়া অন্য অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার দিনও লেনদেন হয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, সুনেহা গৃহবধূ এবং তাঁর নিজস্ব আয়ের কোনও উৎস নেই। তা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টটি কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন বলে পুলিশের সন্দেহ। অভিষেক এবং অনিলের অবস্থান জানতেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্য দিকে, সুনেহার আইনজীবী অজিঙ্ক মিরগল দাবি করেন, ওই অ্যাকাউন্টটি পরিবারের যৌথ অ্যাকাউন্ট। তাই সেখানে থাকা টাকা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, সুনেহার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনজীবীর বক্তব্য, পুলিশ আগেই জানিয়েছিল যে বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি পরিচালিত হত। সে ক্ষেত্রে সুনেহা ওই অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপের নেপথ্যে জড়িত বলে ধরে নেওয়া যায় না। এই মামলায় ধৃত বাকি ১২ জন অভিযুক্তও ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
