২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : আলবেনিয়া সীমান্ত পেরিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করা ৫০০ জনের বেশি অভিবাসীকে বিভিন্ন গন্তব্যে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, ২০২৫ সালের জুন থেকে অন্তত ৪১টি পাচার ঘটনায় জড়িত এই চক্র অবৈধভাবে আয় করেছে সাড়ে ৭ লাখ ইউরোর বেশি।
৬ নভেম্বর গ্রিক পুলিশের এক বিবৃতিতে অভিযানের তথ্য জানানো হয়। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় থেসপ্রোতিয়া এবং সালোনিকিতে একযোগে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে নেপাল, ইয়েমেন ও চীনের নাগরিক রয়েছেন। তারা আলবেনিয়া থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করতেন। এরপর তাদের প্রথমে থেসপ্রোতিয়া অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্র কিংবা তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা করত পাচারকারীরা।
অভিবাসীদের খাবার, পানীয় পানি ও মোবাইল ফোনের সিম কার্ড সরবরাহ করা হলেও এসব সুবিধার জন্য তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আন্তনগর বাসসহ বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহার করে তাদের এথেন্স ও পাতরা শহরে পাঠানো হতো। কিছু ক্ষেত্রে গ্রিসের বাইরে অন্য দেশেও পাঠানোর ব্যবস্থা করত চক্রটি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কয়েকজন অভিবাসীকে পেলোপনিস অঞ্চলের বিভিন্ন খামারে অবৈধভাবে কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল। পাচারের অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে কয়েকটি ঘটনায় অভিবাসীদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। পরে কাজের মাধ্যমে বকেয়া অর্থ পরিশোধে তাদের বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
অভিযানে আটক ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে আলবেনিয়া সীমান্তসংলগ্ন সাগিয়াদা শহর থেকে এবং একজনকে সালোনিকি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন গ্রিসের নাগরিক। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজন সিরীয় পুরুষ এবং একজন আলবেনীয় নারী।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৬ বছর বয়সী আরও একজনকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে বিচার-পূর্ব আটক রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, চক্রটি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও পাচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করত। এসব অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসী পরিবহনের পরিকল্পনা করার পাশাপাশি পুলিশের গতিবিধি ও অভিযানসংক্রান্ত তথ্যও আদান-প্রদান করা হতো।
অভিযানের সময় বৈধ বসবাসের কাগজপত্র না থাকায় আরও ২১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে এক সন্দেহভাজনের বাড়িতে পাওয়া যায়। পুলিশের অভিযোগ, তারা ওই ব্যক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে কাজ করছিলেন।
তিনটি বাড়ি ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি গাড়ি, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, ১ হাজার ১৫০ ইউরো এবং চারটি পাসপোর্ট জব্দ করেছে পুলিশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা সংস্থা ইউরোপোলের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে থেসপ্রোতিয়া, সালোনিকি ও পাতরা অঞ্চলের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অংশ নেয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের থেসপ্রোতিয়ার বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে।
