২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভবোধের জাগরণ আর আলোর প্রত্যাশায় আজ রোববার শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উদ্যাপন করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বালন ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের মন্দির ও ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে এই উৎসব।
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আয়োজন শ্যামাপূজা বা কালীপূজা। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেবী শ্যামার আরাধনা করা হয়। শক্তির প্রতীক দেবী কালীর পূজার পাশাপাশি এদিন ঘরে ঘরে জ্বলে উঠবে অসংখ্য প্রদীপ। আলোকসজ্জা ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠবে বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপ।
দীপাবলি মূলত আলোর উৎসব হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দুদের কাছে এটি দীপাবলি নামে পরিচিত হলেও অবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে একে দিওয়ালি বলে থাকেন। শ্যামাপূজা ও দীপাবলির এই আয়োজনকে অনেকে দীপান্বিতা কালীপূজাও বলেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্ধকারের ওপর আলোর, অকল্যাণের ওপর কল্যাণের এবং অশুভের ওপর শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক এই উৎসব। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসরণ করে বাঙালি, অসমিয়া ও ওড়িয়া হিন্দুরা অমাবস্যার এই তিথিতে কালীপূজা পালন করেন।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১টা ২ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে শেষ হবে এই তিথি। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, রাতের নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত হবে দেবী কালীর পূজা। একই তিথিতে অনেক ভক্ত লক্ষ্মীপূজার আয়োজনও করবেন।
উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে সন্ধ্যায় বাড়ি, মন্দির ও শ্মশানে প্রদীপ জ্বালানো হবে। প্রয়াত পিতা-মাতা ও স্বজনদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে পালন করা হবে বিশেষ ধর্মীয় রীতি।
শ্যামাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও পূজাস্থানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির এবং সবুজবাগের শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে থাকছে পূজার আয়োজন।
এ ছাড়া পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, তাতীবাজার, শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজার ও পোস্তগোলা মহাশ্মশানসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উদ্যাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি আলোর সাজ, প্রার্থনা ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
