২৪ঘন্টা অনলাইন: ২৪ঘন্টা অনলাইন : মাত্র ১৭ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান। মৌসুমের শেষ ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি গড়েছেন নতুন রেকর্ড। তাঁর নৈপুণ্যে টরন্টো এফসিকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এমএলএস প্লে-অফে খেলার সুযোগ পেয়েছেন কাভান।
৮ নভেম্বর রাতে সুবারু পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কাভান। ম্যাচে দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি পেনাল্টিও আদায় করেন তিনি। এর মধ্যে বড় ভাই কুইন সুলিভানের পাস থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে করা গোলটি ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
এই ম্যাচে দুই ভাই কাভান ও কুইন দুজনই গোল করেছেন। এর মধ্য দিয়ে এমএলএসের ইতিহাসে একই ক্লাবের হয়ে এক ম্যাচে গোল করা তৃতীয় ভাই জুটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা।
শুধু একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স নয়, পুরো মৌসুমজুড়েই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন কাভান। ২০২৬ সালের নিয়মিত মৌসুমে তাঁর গোল ৯টি এবং অ্যাসিস্ট ১৪টি। সব মিলিয়ে ২৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখে এমএলএসের কিশোর খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই তরুণ।
ফিলাডেলফিয়ার এই সাফল্যের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ষষ্ঠ স্থান নিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে দলটির। প্রথম রাউন্ডে তিন ম্যাচের সিরিজে তাদের প্রতিপক্ষ হবে তৃতীয় বাছাই নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন।
বিশ্বকাপ বিরতির পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ রায়ান রিখটারের আস্থা পাওয়ার পর থেকেই মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে নিজের সেরা ছন্দে রয়েছেন কাভান। তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে এমএলএসের ‘ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন তিনি।
তবে টরন্টোর বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে সামান্য চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। কোচ রিখটার অবশ্য জানিয়েছেন, চোটটি গুরুতর নয়। আন্তর্জাতিক দায়িত্ব শেষ করে ফিলাডেলফিয়ায় ফিরে প্লে-অফের প্রস্তুতি নেবেন কাভান।
গত মৌসুমে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের হতাশা এবার কাটিয়ে উঠতে চায় ফিলাডেলফিয়া। সেই লক্ষ্যেই নতুন স্বপ্ন নিয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে নামার অপেক্ষায় কাভান। সমর্থকদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাঁদের সমর্থন অনুভব করছেন এবং প্লে-অফ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় আর তর সইছে না।
