রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা ও নোয়াখালী জেলায় ৯০% সুপারি উৎপাদিত হয়। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ, পঞ্চগড়, রংপুর ও সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে সুপারির ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে সুপারির। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সুপারির আবাদ। এরইমধ্যে জেলার অনেক কৃষকই এখন নতুন নতুন সুপারি বাগান গড়ে তুলছেন।

সাতক্ষীরায় ২৮ কোটি টাকার সুপারি বিক্রির প্রত্যাশা কৃষিবিভাগের

প্রকাশিত - ০৮ নভেম্বর, ২০২৬   ১১:২৪ পিএম
webnews24

২৪ঘন্টা অনলাইন:

২৪ঘণ্টা অনলাইন: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, খুলনা ও নোয়াখালী জেলায় ৯০% সুপারি উৎপাদিত হয়। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ, পঞ্চগড়, রংপুর ও সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে সুপারির ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে আবাদ হচ্ছে সুপারির। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সুপারির আবাদ। এরইমধ্যে জেলার অনেক কৃষকই এখন নতুন নতুন সুপারি বাগান গড়ে তুলছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় পান উৎপাদনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুপারিও উৎপাদন হচ্ছে। গত বছর জেলায় মোট ১শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরে জেলায় ১শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১০ হেক্টর বেশি জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে।এ বছর ১শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত সুপারির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭শ’ ৭১ মে.টন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭ থেকে ২৮ কোটি টাকা। কেজি প্রতি শুকনো সুপারির বাজার দর ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। প্রতিটি সুপারি গাছে ৪ থেকে ৫ কেজি সুপারি উৎপাদন হয় বলে কৃষিবিভাগ জানিয়েছে।

জেলার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের কৃষক অরবিন্দু কুমার বলেন, তার তিন বিঘা জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। নারকেল বা অন্য ফসলি গাছগাছালির সাথে মূলত সুপারি গাছ লাগানো রয়েছে তার। বছরে তিনি তার বাগান থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেন। তিনি জানান, স্থানীয় ব্যাপারীরা পাইকারি দরে তার বাগান থেকে সুপারি নিয়ে যান। এসব গাছে ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার গ্রামের আনেক কৃষক পান বরজের পাশাপাশি সুপারি বাগান করেছেন বলে জানান তিনি।জেলার একমাত্র পাইকারি সুপারি বিক্রির মোকাম তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজার। সেখানে সপ্তাহে দুই দিন (মঙ্গল ও শুক্রবার) হাট বসে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সুপারি বিক্রয়ের জন্য এ হাটে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও পাশের জেলা যশোর ও খুলনা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ হাটে এসে সুপারি সংগ্রহ করেন।পাটকেলঘাটা বাজারের সুপারি বিক্রির আড়তদার হযরত আলী বলেন, প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার তার আড়তে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা পাটকেলঘাটা থেকে সুপারি ও পান কিনতে আসেন।

সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের পান-সুপারি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম জানান, সুপারি কাঁচা ও শুকনো দু’টিরই চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন তিনি প্রচুর পরিমাণ পান ও সুপারি বিক্রি করে থাকেন। পাটকেলঘাটা বাজার থেকে সপ্তাহে দুই দিন তিনি পান ও সুপারি পাইকারি ক্রয় করে এখানে নিয়ে এসে তা খুচরা বিক্রি করে থাকেন। কাঁচা সুপারি প্রতি হাজার ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে ক্রয় করছেন। এছাড়া শুকনো সুপারি কেজি প্রতি সাড়ে ৪শ’ টাকা পাইকারি দামে ক্রয় করছেন।সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, চলতি বছরে জেলায় ১শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমিতে উৎপাদিত সুপারির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৭শ’ ৭১ মে.টন। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭ থেকে ২৮ কোটি টাকা।

তিনি আরো জানান, পান ও সুপারি আমাদের দেশের অর্থকরি ফসল। বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সুপারি উৎপাদন হচ্ছে সাতক্ষীরায়। এখন অনেকে বাড়ির বসতভিটা ও পুকুর ধারে সুপারি বাগান করছেন, আবার কোনো কোনো কৃষক সাথী ফসল হিসেবেও সুপারির সঙ্গে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছেন। উপকূলের উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরার কৃষকরা যেভাবে সুপারি চাষে এগিয়ে আসছেন, তাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ খাতের সম্ভাবনা আরও সুদৃড় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বেলে দো-আঁশ মাটি এবং ৫.৫ থেকে ৬.০ পিএইচ (pH) মান সুপারি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি সুপারি-১ ও বারি সুপারি-২ জাতগুলোর অধিক ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এ জাতের সুপারি চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
জেলায় এ বছর অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের কঠোর পরিশ্রম আর পরিচর্যায় উৎপাদিত আগাম জাতের আমন ধান পাকতে শুরু করেছে।মাঠজুড়ে কাঁচা-পাকা ধানের সমারোহে ছড়িয়েছে সোনালি আভা। শুরু হয়েছে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার জেলায় আমনের অধিক ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
অসুস্থ শরীর নিয়ে কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবেন, তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি রাকিবুল ইসলাম। বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এক জোড়া দুম্বা কিনে গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি খামার। সেই খামারই এখন তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
উদ্ভাবিত এ জাতটির জীবনকাল প্রায় ১১৫ দিন। লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের অলবণাক্ত অঞ্চলেও এটি চাষ করা সম্ভব। এর ফলে রোপা আমন কেটে নেওয়ার পর একই জমিতে সরিষা কিংবা সূর্যমুখীর মতো রবি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হবে।গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোপা আমন মৌসুমে ১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এর বীজ বপন করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বসবাস। তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের প্রাচীনতম পেশা এই জুম চাষ। তাই তাদের জুমিয়া বলা হয়। যুগ যুগ ধরে পাহাড়িরা সনাতন পদ্ধতিতে জুম চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন-উভয় মৌসুমেই বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি আবাদ করেন তিনি। তার জমিতে উৎপাদিত সবজির মধ্যে রয়েছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, করলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা এবং বিভিন্ন রকমের শাক। উৎপাদিত এসব পণ্যের মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।
চলতি মৌসুমে প্রায় কোটি টাকার শীতকালীন সবজির চারা বিক্রি হবে