শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

৯ মাস পর পৃথিবীতে ফিরলেন বুচ ও সুনিতা

প্রকাশিত - ২১ মার্চ, ২০২৫   ১১:১১ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) দীর্ঘ ৯ মাস কাটিয়ে অবশেষে পৃথিবীতে ফিরতে সক্ষম হলেন দুই বিশিষ্ট মার্কিন নভোচারী বুচ উইলমোর ও সুনিতা উইলিয়ামস। গত বছরের ৬ জুন এক সপ্তাহের মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যান বুচ ও সুনিতা। কিন্তু বোয়িংয়ের যে ক্যাপসুলে তারা যান, সেই ‘স্টারলাইনারে’ ত্রুটি দেখা দিলে এবং নিরাপত্তার কারণে তাদের সময়মতো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায়নি।

বুচ ও সুনিতা গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৫ মিনিটে (জিএমটি ৫টা ৫ মিনিট) মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীতে রওনা দেন। পৃথিবীতে ফেরার এ যাত্রায় ক্যাপসুল ক্রু ড্রাগনে তাদের সঙ্গে ছিলেন আরও দুজন নভোচারী। দুই নভোচারীকে ফেরত আনতে যাওয়া ক্যাপসুলে ছিলেন তারা। এ দুজন হলেন মার্কিন নভোচারী নিকোলাস হেগ ও রুশ নভোচারী আলেকজান্ডার গর্বুনভ।

‘নাসা ক্রু–৯ মিশন’–এর অংশ হিসেবে ক্রু ড্রাগনে ফিরতি যাত্রা শুরু করার ১৭ ঘণ্টা পর এই চার নভোচারী পৃথিবীর আকাশমণ্ডলে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল দিবাগত রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে তাঁদের বহনকারী ক্যাপসুলটি বিশেষ প্যারাস্যুটের সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূল থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে সমুদ্রে নেমে আসে।

বুচ ও সুনিতা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অভিজ্ঞ নভোচারী ও মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট। ক্রু ড্রাগনের এ ফিরতি যাত্রা নিয়ে ক্রু–৯ মিশনের কমান্ডার ও নাসার নভোচারী নিক হেগ বলেন, ‘কী অসাধারণ যাত্রা!’ বুচ ও সুনিতাকে এখন নাসার একটি উড়োজাহাজে করে হাউসটনে সংস্থাটির জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কয়েক দিন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে তাদের। নাসার ফ্লাইট সার্জনের সম্মতির পর পরিবারের সঙ্গে একত্র হতে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।

উল্লেখ্য, গত জুনে মাত্র আট দিনের এক মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন দুই নভোচারী বুচ ও সুনিতা। মিশন শেষে পৃথিবীতে ফেরার কথা থাকলেও মহাকাশযানের ত্রুটির কারণে আটকে যান তারা। পৃথিবীতে তাদের ফেরানো নিয়ে রাজনীতিও শুরু হয়। ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাজনৈতিক কারণে বুচ ও সুনিতাকে মহাকাশ স্টেশনে ফেলে রেখেছেন। বুচ ও সুনিকে এখন নাসার একটি উড়োজাহাজে করে হাউসটনে সংস্থাটির জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কয়েক দিন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে তাদের। নাসার ফ্লাইট সার্জনের সম্মতির পর পরিবারের সঙ্গে একত্র হতে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।

যা হোক, গত সোমবার নাসার পক্ষ থেকে দুই নভোচারীকে ফেরার দিনক্ষণ জানানো হয়। তাদের ফেরাতে নাসা ও স্পেসএক্স ‘ক্রু–৯ মিশন’ পরিচালনা করে। মিশনের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা ৩ মিনিটে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি মহাকাশকেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে। ২৯ ঘণ্টা পর গত রোববার ভোর ৪টা ৪ মিনিটের দিকে এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছায়।দুই নভোচারীকে ফিরিয়ে আনতে গত বছর থেকেই নানা পরিকল্পনা করতে শুরু করে নাসা। গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দুই নভোচারীকে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন।

২৪ঘণ্টা/শাহ
 

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।