২৪ঘণ্টা অনলাইন : ফের সন্ধির পথে ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইলন মাস্ক? সেরকমই ইঙ্গিত দিলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাকযুদ্ধের সময় তিনি যে কয়েকটি পোস্ট করেছিলেন তার জন্য তিনি অনুতপ্ত। একথা বলেছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। টেসলার মালিক তার হোয়াইট হাউসের ভূমিকা থেকে সরে আসার পর এবং ট্রাম্পের কর বিলকে ‘জঘন্য কাজ’ বলে অভিহিত করার পর এই দুজন জনসমক্ষে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনর্মিলনের সম্ভাবনার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা বলার পর মাস্কের এই পোস্টটি এসেছে। ট্রাম্প বলেন যে, বন্ধুত্বের এই পরিণতিতে তিনি কিছুটা হতাশ, তবে কোনও কঠিন অনুভূতি নেই।
ট্রাম্প মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার কথা বলেন। বিশাল কর ছাড় এবং আরও প্রতিরক্ষা ব্যয় অন্তর্ভুক্ত এই বিলটি গত মাসে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছিল এবং এখন সিনেটররা এটি বিবেচনা করছেন। মাস্ক আমেরিকানদের ওয়াশিংটনে তাদের প্রতিনিধিদের ডেকে ‘বিলটি খারিজ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে, এটি ‘বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মন্দার কারণ হবে’। পাশাপাশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কোনও প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত অপ্রকাশিত সরকারি ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নাম আছে। হোয়াইট হাউস এই দাবিগুলোকে খারিজ করে দিয়েছে।
জবাবে, ট্রাম্প বলেন, মাস্ক ‘মানসিকভাবে পাগল’ হয়ে গেছেন এবং তার সরকারি চুক্তি বাতিল করার হুমকি দেন, যার আনুমানিক মূল্য ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্সের কাছে যায়। রবিবার এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, আপনি প্রেসিডেন্টের অফিসকে অসম্মান করতে পারেন না।
মাস্ক সপ্তাহান্তে তার অনেক পোস্ট মুছে ফেলেন, যার মধ্যে ট্রাম্পের অভিশংসনের আহ্বান জানানো একটি পোস্টও ছিল। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় মাস্ক ছিলেন সবচেয়ে বড় দাতা এবং তাকে প্রেসিডেন্টের ডান হাত হিসেবে বিবেচনা করা হত। বর্তমান বাকযুদ্ধের পর ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী স্টিভ ব্যানন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী মাস্ককে নির্বাসনের দাবি জানান।
বুধবার মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্প মাস্কের উপর হতাশ হলেও, প্রেসিডেন্ট টেসলার সিইওর সাথে দীর্ঘমেয়াদী বিরোধ চান না। ভ্যান্স আরও বলেন, তিনি ট্রাম্প এবং মাস্ক উভয়ের সাথেই কথা বলেছেন। বেশিরভাগ রিপাবলিকান দুই ব্যক্তির মধ্যে পুনর্মিলনের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা দুই প্রভাবশালীর দ্বন্দ্বের দিকে নজর রেখেছেন।
