২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা এবং সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল স্থানীয় সময় ভোর ৪টার পর ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে এ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি ও বিমানবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহসহ অন্তত ২০ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এছাড়া নিহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন পরমাণুবিজ্ঞানী। ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত নিউজ এজেন্সি নূর নিউজ জানিয়েছে, তেহরানে আবাসিক ভবনগুলোয় ওই হামলায় ৭৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে।
দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তেহরানসহ অন্তত আটটি শহরে আঘাত হানে ইসরায়েল। নাতাঞ্জ ও বুসেহর পারমাণবিক কেন্দ্র, ইসফাহান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, তেহরানের আইআরজিসি সদর দপ্তর ও বিমান প্রতিরক্ষা হেডকোয়ার্টারসহ অন্তত সাতটি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও কমান্ড ব্যবস্থা ধসের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে ইসরায়েলি হামলার পর তেহরান শতাধিক ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেপ্রির বরাত দিয়ে সিএনএনের খবরে বলা হয়, ইরান শতাধিক ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে, যা আমরা প্রতিহত করেছি। যদিও ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
এদিকে গতকাল রাতেও হামলা-পাল্টাহামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের এক মুখপাত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে তারা আবারো ইসফাহানে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছেন।
বিবিসি বলছে, তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনার কাছে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ। এছাড়া তেহরান শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বেশকিছু ভিডিওতে আকাশে উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি দেখা গেছে, যাকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
এদিকে ইসরায়েলে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে সিএনএন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে অতিরিক্ত ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সিএনএন বলছে, তেল আবিব থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু রকেট ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ঢুকে পড়েছে। শহরের উঁচু ভবনের আশপাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। এ ঘটনায় ৭ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ইরান দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও জানিয়েছে। যদিও আইডিএফ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
কোথায় হামলা হয়েছে
শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৪টার পর ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। তেল আবিব বলছে, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের শুরু হিসেবে এ হামলা চালায় ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। দেশটির প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র একাধিকবার আঘাতের শিকার হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে। টেলিভিশনে এ স্থাপনা থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে থাকার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এখানেই ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র অবস্থিত। হামলা হয়েছে রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের সামরিক স্থাপনায়। তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ শহর, যেখানে একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ও দুটি সামরিক ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের দক্ষিণে ইসফাহান শহর; তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে আরাক শহর ও পশ্চিমে কেরমানশাহ শহরেও হামলা হয়েছে।
২০ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত ও ছয় জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী নিহত
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি, আইআরজিসি-প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি ও বিমানবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহসহ অন্তত ২০ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। হোসেইন সালামির মৃত্যুর পর আইআরজিসির নতুন প্রধান হিসেবে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একই সঙ্গে নিহত চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মোসাভি। এছাড়া সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গোলামআলি রাশিদ নিহত হওয়ার পর খাতামুল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল আলি শাদমানি। ইসরায়েলের এ হামলায় ইরানের ছয় বিজ্ঞানীকে হত্যা করা হয়। তারা হলেন আব্দুল্লাহ মিনৌচেহর, আহমাদ রেজা জলফাঘারি, সায়েদ আমির হোসেন ফাকহি, মোতলাবিজাদেহ, ফারেদুন আব্বাসি ও মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি। দেশটির পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার জন্য তারা ছয়জনই খুব গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি
ইরানের হামলার পর সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী ১০ হাজারের বেশি সৈন্য মোতায়েন করছে এবং সব সীমান্তজুড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে কেউ আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে চাইবে, তাকে বড় মূল্য দিতে হবে।’
নেতানিয়াহু বলেছেন হামলা চলবে
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের যেসব বিজ্ঞানী পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজে যুক্ত, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হচ্ছে, এটা কয়েক দিন ধরে চলবে।
নৃশংস হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান এখনো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না করলে এরপর তাদের ‘আরো নৃশংস’ ইসরায়েলি হামলার শিকার হতে হবে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমি তাদের সবচেয়ে কড়া ভাষায় বলেছি পারমাণবিক চুক্তি করতে। কিন্তু তারা এটি করতে পারেনি।’ ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘এরই মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসসাধন হয়েছে। কিন্তু এখনো সময় আছে। এ রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভব। কারণ পরবর্তী হামলার পরিকল্পনা এরই মধ্যে করা হয়ে গেছে। এ হামলা আরো নৃশংস হবে।’
বিশ্বজুড়ে দূতাবাস বন্ধ করে দিচ্ছে ইসরায়েল
ইরানে হামলার পর ইসরায়েল বিশ্বব্যাপী তাদের সব দূতাবাস বন্ধ করে দিচ্ছে। নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনসমাগম এলাকায় কোনো ইহুদি বা ইসরায়েলি প্রতীক প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে ইসরায়েলের দূতাবাসের ওয়েবসাইটগুলোয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তাদের বৈদেশিক সব মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে। কনস্যুলার সেবাও আপাতত দেয়া হবে না।
ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ‘ভয়াবহ পরিণামের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে খামেনি বলেন, ‘এ অপরাধের মাধ্যমে (ইসরায়েলের) জায়নবাদী শাসকরা নিজেদের জন্য একটি তিক্ত ও বেদনাদায়ক নিয়তি নিশ্চিত করেছে। নিশ্চিতভাবেই তাদের ওই পরিণাম দেয়া হবে।’ অন্যদিকে ইসরায়েলের হামলায় নিহত প্রত্যেক নাগরিকের রক্তের প্রতিশোধ নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের উদ্দেশে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এমন বর্বর শাসকের সঙ্গে শুধু শক্তির ভাষায় কথা বলা উচিত।’
উদ্বেগ, নিন্দা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান
ইরানে ইসরায়েলি হামলায় উদ্বেগ, নিন্দা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলছে, তখন এমন হামলা বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘ইসরায়েলের এমন হামলার পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
ওমানের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে সরাসরি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়া বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের এ হামলার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের কাজ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসরায়েলি পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। এতে বলা ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চালানো এ প্রকাশ্য আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সৌদি আরব। এটি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ সামরিক পদক্ষেপের বিপদ সম্পর্কে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। এ উসকানির সব পরিণতির দায় ইসরায়েলি নেতৃত্বের ওপর বর্তাবে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে ‘আগ্রাসন বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলের চালানো হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে আঙ্কারা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্য মুসলিম দেশগুলো থেকে শুরু করে ইউরোপের দেশগুলো এ হামলার নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।
রূপ নিতে পারে আঞ্চলিক যুদ্ধে
বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে এসেছিলেন। অবশেষে তা বাস্তবের মুখ দেখল। ইরান এর প্রতিক্রিয়া দেখাবেই। এরই মধ্যে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ১০০টির মতো ড্রোন ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেসব ড্রোন ভূপাতিত করার ছবিও টেলিগ্রামে এসেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান আরো বড় আকারে প্রতিশোধ নেবে, যা পুরো অঞ্চলকেই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেমনটা হলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়বে বলে বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন।
সিএনএনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক বেথ সেনার বলছেন, ‘ইরানের সালামির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে। আমেরিকার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলে তারা কী করতে পারে একবার ভেবে দেখুন।’ সেনারের মতে, ইরান এখন ‘অস্তিত্বের সংকটে’, যে কারণে ইসরায়েল শেষবার যেমনটা দেখেছে তার তুলনায় এবার তারা ‘ব্যাপক, অনেক বড়সড় পাল্টা হামলা সামলানোর’ প্রস্তুতি নিতে পারে। তবে ভিন্ন মত জানিয়েছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের স্কোক্রফট সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ পরিচালক ম্যাথু ক্রোয়েনিগ। তার মতে, ইসরায়েল হামলা চালালেও ইরানের পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা কম।
