শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩
ইসলামাবাদের সামনে ব্যর্থ মোদীর কূটনীতি?

পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত - ১৭ জুলাই, ২০২৫   ০৮:৩৯ পিএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : সব কিছু ঠিকঠাক এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে জোড় আভাস চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে আসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৭ জুলাই ওয়াকিবহাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনই দাবি করেছে পাকিস্তানের দু’টি সংবাদ চ্যানেল। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে পাকিস্তানের বিদেশ দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পাকিস্তান সফর সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানেন না। এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

দুই দশক পরে পাকিস্তানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
যদি শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প পাকিস্তানে আসেন, তা হলে প্রায় দুই দশক পরে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের পা পড়বে ইসলামাবাদে। এর আগে ২০০৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পাকিস্তান সফরে এসেছিলেন।

পাকিস্তানের পরে ভারতে ট্রাম্প?
ট্রাম্প পাকিস্তান সফর করলে তা নয়াদিল্লির জন্য চিন্তার বিষয় হবে বৈকি। এমনিতেই ট্রাম্প জমানায় ফের পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবে যে দু’টি পাকিস্তানি সংবাদ চ্যানেল এই খবর প্রকাশ করেছে, তারা এটাও জানিয়েছে যে, পাকিস্তান থেকে ভারতে আসবেন ট্রাম্প। অর্থাৎ, পাক সফরের ঠিক পরেই ট্রাম্প ভারত সফরও করবেন।

ট্রাম্প জমানায় বদলে গিয়েছে মার্কিন-পাক সম্পর্ক
বাইডেন জমানায় ইসলামাবাদের পাশ থেকে প্রায় সরেই গিয়েছিল আমেরিকা। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা গিয়েছিল। ইসলামাবাদকে আমেরিকার একতরফা সহায়তার বদলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল লেনদেনমূলক। কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফের দুই দেশের কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দেখা গিয়েছে।

গত কয়েক মাসে কী ভাবে কাছাকাছি এসেছে আমেরিকা-পাকিস্তান?
গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে এক রুদ্ধদ্বার মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই আমন্ত্রণ ছিল নজিরবিহীন। প্রথমবার রাজনৈতিক পদে না থাকা সত্ত্বেও কোনও পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মধ্যাহ্নভোজের পরে ওভাল অফিসেও তাঁদের দু’জনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। শুধু মুনিরই নন, সম্প্রতি পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু-ও মার্কিন বায়ুসেনা প্রধান জেনারেল ডেবিড ডব্লিউ আলভিন-সহ আমেরিকার সামরিক নেতৃত্বের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

সেটা ছিল প্রায় এক দশক পরে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর প্রধানের আমেরিকায় সরকারি সফর। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ কর্তা, মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন তিনি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর কর্তাদের এই সফরগুলি আমেরিকা-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্কের উন্নয়নের ইঙ্গিত।

ইসলামাবাদের সামনে পরাস্ত মোদীর কূটনীতি?
এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের চারদিনের সংঘর্ষও ঘটে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে বিষয়টি বোঝানো সত্ত্বেও, বারে বারে এই সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করে চলেছেন ট্রাম্প। ইসলামাবাদের এতে আপত্তি নেই। আসিম মুনির তো এর জন্য ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশও করেছেন। এই অবস্থায় যদি সত্যিই পাকিস্তান সফরে আসেন ট্রাম্প, তা হলে বড় কূটনৈতিক জয় পাবে পাকিস্তান। পহেলগাম হামলার পরে সন্ত্রাসবাদীদের মদতদাতা হিসেবে পাকিস্তানকে যে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে করার কূটনৈতিক প্রয়াস নিয়েছিল নয়াদিল্লি, তা জোর ধাক্কা খাবে। আন্তর্জাতিক মহলে বার্তা যাবে পাকিস্তানের পাশেই রয়েছে আমেরিকা। পাকিস্তানের পরে ট্রাম্প ভারত সফরে এলেও এই বার্তা বদলাবে না।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখালেন ইলন মাস্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার উন্মোচন করেছে টেসলা। গাড়িটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার নয়—স্পেসএক্সের প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রাস্টারের সাহায্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাটি ছেড়ে আকাশেও উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোডস্টারকে বিশেষ র‍্যাম্পে উল্টোভাবে চলতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং থ্রাস্টারের সাহায্যে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।