২৪ঘণ্টা অনলাইন : শুল্ক ইস্যুতে তৃতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যে নতুন করে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দুই দফা আলোচনা হলেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। এই দফার আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে পহেলা অগাস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গড়ে ৫০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে বাংলাদেশকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় এবার ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। ২৯ জুলাই মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে প্রথম দিনের আলোচনায় করেছে প্রতিনিধি দল।
তৃতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য জানিয়েছিলেন, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পহেলা অগাস্টের আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন তারা। এক্ষেত্রে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি 'প্যাকেজ প্রস্তাব' দেওয়ার কথা জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক দিকগুলো বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেমন হবে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে নজরে রাখার কথা বলছেন তারা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করছেন, যোগাযোগ রাখেন তাদের এই প্রক্রিয়ায় আরও আগেই যুক্ত করা উচিত ছিল। আরো বলছেন, "আমাদের কাঁধে বন্দুক রেখে যেন অন্য কেউ গুলি চালাতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা দরকার।" একইসাথে বাড়তি শুল্কের চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিও আগেভাগেই শুরু করার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা।
উল্লেখ্য, এ বছর দোসরা এপ্রিল পাল্টা শুল্ক আরোপের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তটি ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এই সময়ের মধ্যেই সব দেশের সঙ্গে একটা ন্যায্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশ।
গত সাতই জুলাই বাংলাদেশের সব ধরনের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করার বিষয়ে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা পহেলা অগাস্ট থেকে কার্যকর হবে বলেও ওই চিঠিতে জানানো হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে তৃতীয় দফার আলোচনার আগে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া 'নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট' এর কারণে সেই আলোচনাও ছিল সীমাবদ্ধ। তৃতীয় দফায় আলোচনার আগেই নিজেদের 'চূড়ান্ত অবস্থানপত্র' যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিষয়ক দপ্তর 'অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ'কে (ইউএসটিআর) পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। যেখানে শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নানা শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতি কমানোসহ নানা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বাংলাদেশ।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএসটিআরের প্রধান কার্যালয়ে চলছে তৃতীয় দফার এই আলোচনা। যেখানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আমদানি নীতি পরিবর্তন করে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার তুলে নেওয়া ছাড়াও বন্দর ব্যবস্থাপনাসহ অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
