২৪ঘণ্টা অনলাইন : গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দায়ের করে সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করে। ওই হামলায় পাকিস্তানের জঙ্গিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ভারত এ সিদ্ধান্ত নেয়। হামলার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এক প্রকার পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোও ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।
তবে, এই হুঁশিয়ারির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান সরকার থেকে এসেছে ভিন্ন সুরের বার্তা। সোমবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ভারতকে সিন্ধু চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার অনুরোধ জানায়।
পাক বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “সিন্ধু পানিচুক্তি কার্যকর করার বিষয়ে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ভারতের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যেন তারা অবিলম্বে এই চুক্তি স্বাভাবিকভাবেই কার্যকর করা শুরু করে এবং চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণ করে।” পাকিস্তান আরও উল্লেখ করেছে, ৮ আগস্ট সিন্ধু চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের রায়কে তারা স্বাগত জানায়, যেখানে বলা হয়েছে, ভারতকে নদীগুলোর পানি পাকিস্তানের ব্যবহারের জন্য ছাড়তে হবে। তবে ভারত এই সালিশি আদালতের কাজকে স্বীকৃতি দেয়নি।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু, বিতস্তা ও চন্দ্রভাগার নদীর পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হয়েছিল। বিপাশা, শতদ্রু ও ইরাবতীর পানি সম্পূর্ণ ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সিন্ধু নদী ও এর শাখাগুলোর পানির প্রায় ৭০ শতাংশ পাকিস্তানের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ভারত এই পানি সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মাছ চাষের জন্য সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে পারে।
এর আগে রবিবার ফ্লোরিডার টাম্পায় অনুষ্ঠিত এক শিল্পপতি আয়োজিত নৈশভোজে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির হুমকিস্বরূপ বলেন, “আমরা একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি মনে হয় আমরা ধ্বংসের পথে যাচ্ছি, তবে অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ধ্বংস হব।” তিনি আরও বলেন, “ভারত বাঁধ তৈরি করুক, আমরা অপেক্ষা করব। যখন বাঁধ তৈরি হবে, আমরা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেই বাঁধ ধ্বংস করে দেব।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, “ভারত সরকারের কিছু পদক্ষেপ পাকিস্তানের ক্ষতিসাধন করছে। তাই পাকিস্তানের জনগণের উচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।”
মুনিরের কঠোর হুমকির পরও ইসলামাবাদ থেকে আসা এই আবেদন নতুন আলোকে তুলে ধরেছে দুই দেশের মধ্যকার পানি বিরোধ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই সিন্ধু চুক্তি নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও এবার একদিকে কঠোর হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে সংলাপের আহ্বান দুই দেশের সম্পর্কে জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।
